swamiji and saradaEducation Lifestyle Others 

মহামানবের সাক্ষাৎ জগদম্বা

স্বামীজি এক বিস্ময়। এক মহা আশ্চর্য পুরুষ। সব মিলিয়ে এক মহামানব। চাহনিতে ভক্তি জোগায়। চলায় কথা বলায় জেগে ওঠে মানুষ। স্বামীজির বাণী আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর উপদেশ লোকের মুখে মুখে ঘোরে। স্বামীজির অনেক কিছুই স্মরণে রেখেছি আমরা । ১৮৯৩ সালের ৩০ জুলাই তিনি শিকাগো পৌঁছেছিলেন। ১২ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিবস যুব-দিবস হিসেবে পালিত হয়। তাঁর মতাদর্শে বহু মানুষ দীক্ষিত। স্বামীজি বলে গিয়েছেন,ভালোবাসা ও স্বাধীনতাই উন্নতির প্রধান দুটি শর্ত। স্বামীজি সবসময় যথার্থ মানুষ-গড়ার কথা বলতেন। স্বামীজির মুখে শোনা গিয়েছে, “আমি এই শরীরটাকে জীর্ণ বস্ত্রের মতো ছেড়ে দিতে পারি কিন্তু কাজ থেকে বিশ্রাম নেব না। যতদিন না মানুষ সেই চরম একত্বে উপনীত হয়, ততদিন সর্বত্র আমি মানুষের মনে প্রেরণা জোগাতে থাকব।” স্বামীজি বলে গিয়েছেন, “How difficult it is to break the human bond” মানুষের প্রেমের বন্ধন ছিন্ন করা অত্যন্ত কঠিন এই বার্তাটা আমাদের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই জগতের রঙ্গমঞ্চ চিরকালের জন্য নয়। এখান থেকে বিদায় নিতে হয়। তবে হৃদয়ের বন্ধন থেকে যায়। স্বামীজি পাশ্চাত্যকে আপন করে নিয়েছিলেন তাঁর মস্তিষ্ক দিয়ে এবং ভালোবাসায়। হৃদয় বন্ধনে জড়িয়ে নিয়েছিলেন সব মানুষকে। মানুষকে ভালোবাসতেন বলেই তিনি বলতে পেরেছেন,”I fell in love with human being” মানুষের প্রেমে পড়ার কথা তিনি বারে বারে বলেছেন। স্বামীজির বাণী ও রচনা পড়ে আমরা হয়তো তাঁর সম্পর্কে কিছুটা জানি। বিবেকানন্দ সম্পর্কে তাঁর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শিষ্যরা লিখেছেন অনেক কথাই। সব কথা আমরা জানি না বা পড়ি না। মানুষের মনে অতৃপ্তির মূল কারণ- “বিষয়-বাসনা”। বাসনা সরে নির্বাসনা এলে পরম সুখে মন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাই শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন,”পায়ে কাঁটা বিঁধলে বের করার জন্য আরেকটি কাঁটা লাগে, কিন্তু কাঁটাটি বার হয়ে গেলে দুটো কাঁটাই ফেলে দিতে হয়”। লজ্জা, ঘৃণা ও ভয় থাকলে সমস্যা হয় না। নিষ্কলুষ পূর্ণ মানবে পরিণত হতে গেলে অনেক কিছু ত্যাগের প্রয়োজন। নিরন্তর ত্যাগ ও সেবায় যেমন সারদা মা হয়ে উঠেছিলেন সকলের “মা”। হয়ে উঠলেন জগৎ সংসারের মা। মাতৃরূপে পূজিত হলেন। ঘরে ঘরে তাঁর পুজো হয়। জগৎ জননী হয়ে উঠলেন সর্ব প্রাণের মা। একটা পিঁপড়েকে মারতে দেখলে তাঁর মন ব্যাকুল হতো। মা সারদা প্রসঙ্গে স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজ বলে গিয়েছেন,”মাকে চেনা বড় শক্ত। ঘোমটা দিয়ে যেন সাধারণ মেয়েদের মতো থাকেন, অথচ মা সাক্ষাৎ জগদম্বা। ঠাকুর না চিনিয়ে দিলে আমরাই কি মাকে চিনতে পারতুম”!
এই জগৎ সংসারে সবকিছু তোমার মনের মতো হবে না।এমনটা আশা করাও যায় না। সব রকম পরিবেশেই মানিয়ে চলতে চেষ্টা করতে হবে। এ জগতে আমরা একা এসে থাকি। জগৎ সংসার ছেড়ে চলে যাইও একা। অত্যন্ত কাছের মানুষ হলেও তোমার সঙ্গে যাবে না। একমাত্র আপনজন বলতে রয়েছেন সারদা মা। তিনি তোমার সঙ্গেই রয়েছেন সদা সর্বদা। সৎপথে থাকলে, সত্যকে ধরে চললে,জীবে প্রেম করলে ও ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখলে তোমার মনকে বিচলিত করতে পারবে না। মা সারদা সর্বশক্তিময়ী জগজ্জননী। তোমার কোনও ভয় নাই। এই উপলব্ধি স্বামীজি সবার অন্তরে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। (ছবি:সংগৃহীত)

Related posts

Leave a Comment