শুরু খেজুরগাছ প্রস্তুত-পর্ব : ঐতিহ্য রক্ষায় মরিয়া গাছিরা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: হালকা শীত পড়তেই খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ কাটার পর্ব শুরু হতে চলেছে। খেজুর রস আহরণের জন্য গ্রামের পর গ্রাম খেজুরগাছ প্রস্তুত করণের কাজ শুরু করেছেন গাছিরা। স্থানীয় সূত্রের খবর, গাছিরা কোমরে দড়ি বেঁধে হাতে ধারালো দা-জাতীয় অস্ত্র নিয়ে খেজুরগাছগুলিতে চাঁছাছোলা ও নলি বসানোর কাজ শুরু করেছেন। পরবর্তী সময়ে এই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হবে। এরপর সেই রস থেকে গুড়-পাটালি তৈরি হবে।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর,রসের জন্য খেজুরগাছ প্রস্তুুত করার প্রক্রিয়া চলছে রাজ্যের বেশ কিছু জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা একত্রে অনেক খেজুরগাছ ভাগে নিয়ে থাকেন। অপ্রয়োজনীয় পাতা বা ডাটি কেটে ফেলার পর খেজুর গাছের বুক চিরে বাঁশ বা কঞ্চির কাঠি লাগানোর কাজ চলেছে। ১৫ দিনের মধ্যে খেজুরের রস সংগ্রহের কাজ শুরু করা যাবে বলেও আশাবাদী এই পেশার মানুষেরা।
এই পেশার মানুষের একটা অংশের বক্তব্য,অনেক পরিশ্রমের কাজ বলে বর্তমান দিনে এই পেশায় লোক কমছে। খেজুর গাছের সংখ্যা কমছে। আগের মতো রমরমা ব্যবসা আর নেই। তা ক্রমশ কমতে বসেছে। খেজুরের রস-গুড় ও পাটালি ছিল উত্তর ২৪ পরগনা,দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি,বীরভূম সহ কয়েকটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা। এখন তা কমতে বসেছে।
এই সব জেলার বেশ কিছু অঞ্চল থেকে আসা গুড় বা পাটালি থেকে সুস্বাদু খাবার তৈরি হয়। তবে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। জ্বালানি কাঠ হিসেবে গ্রামীণ এলাকায় খেজুর গাছের দাম কম হওয়া এবং তা সহজে পাওয়ার কারণে ইটভাটা ও টালি কারখানায় তা বিক্রি হয়। ফলে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে আসছে। তবে এই পেশার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা ঐতিহ্য ধরে রাখতে মরিয়া চেষ্টা করছেন। (ছবি: সংগৃহীত)

