অপূর্ব বকখালির সমুদ্র সৈকত
দক্ষিণ ২৪ পরগণার সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা। একটি গ্রাম বললেই ঠিক বলা হবে। সমুদ্রতট বিস্তৃত এবং অগভীর। স্থানটিতে বঙ্গোপসাগরের উথাল-পাথাল ঢেউ দেখা যায় না। জোয়ারে জলপূর্ণ থাকলেও ভাটায় সমুদ্র অনেক দূরে অবস্থান করে। সাদা বালির শক্ত বিচ ধরে হাঁটার আনন্দ রয়েছে। ভ্ৰমণ বিলাসীরা ঢেউ স্পর্শ করতে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যান। ভ্রমণের আনন্দে পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকে উপভোগ করেন সমুদ্রের উন্মাদনা। হ্যাঁ, বুঝতেই পারছেন বকখালির কথা বলছি। কাছাকাছি একটু ঘুরে আসার জন্য বকখালি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দীঘার পর বাংলার সমুদ্র সৈকত বলতে বকখালির নাম উঠে আসবে। কীভাবে যাবেন তা নিয়ে ভাবনার কোনও কারণ নেই। শিয়ালদহ থেকে ট্রেন যোগে গেলে নামতে হবে নামখানা। সেখান থেকে বাস অথবা গাড়ি করে বকখালি পৌঁছে যাওয়া যায়। দূরত্ব প্রায় ২৭ কিমি। আবার কলকাতা থেকে সড়ক পথে দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিমির মতো। বকখালির সমুদ্র সৈকতের যেমন অপূর্ব সৌন্দর্য তেমনি ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে ডুব দিয়ে স্নান করতে পারবেন না। স্নান করতে ইচ্ছে হলে বসে করতে হবে। ঢেউ এসে শরীর ভিজিয়ে দিয়ে যাবে। এখানে এসে কী কী দেখতে পাবেন তারই একঝলক তুলে ধরা হল। বকখালি থেকে ৩-৪ কিমি দূরেই রয়েছে হেনরি আইল্যান্ড। রাজ্যের মৎস্য দফতরের অধীনে থাকা পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবেন। তবে একটা প্রবেশ মূল্য রয়েছে। মাছ চাষের জন্য অনেক জলাশয় আপনার নজরে পড়বে। রয়েছে থাকার ব্যবস্থাও। সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চল হওয়ার কারণে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের পরিবেশ লক্ষ্য করতে পারবেন। হেনরি আইল্যান্ডে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মধ্যে দিয়ে পথ চলে গিয়েছে সমুদ্র তটভূমিতে। বকখালি থেকে কাছেপিঠে চলে যান ফ্রেজারগঞ্জ। দেখতে পাবেন বড় বড় ট্রলার। ভরপুর সাদা বালির ব্রিজ। এই বিচের পাশ্ববর্তী বাড়িগুলোতে স্মৃতিচিহ্ন জড়ানো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ফ্রেজার সাহেব যখন এখানে বসবাস করতেন সেই সময় এই বাড়িগুলিতে তাঁর পদচিহ্ন পড়েছে। এই অঞ্চলটির দায়িত্বভার তাঁর কাঁধে থাকার কারণেই জায়গাটির নাম হয়েছে ফ্রেজারগঞ্জ। (ছবি: সংগৃহীত)

