দেবী দুর্গার বসন্তকালীন আরাধনা
বাসন্তী পুজো হলো দেবী দুর্গার বসন্তকালীন আরাধনা। মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুযায়ী বর্ণনা করা হয়েছে, হিন্দু শাস্ত্রে এটি দুর্গা পুজোর আদি রূপ। এই পুজোর সূচনা করেন চন্দ্রবংশীয় রাজা সুরথ। মেধা মুনির নির্দেশ মেনেই বসন্তকালে মাটির মূর্তি তৈরি করে এই পুজোর আয়োজন হয়। শাস্ত্রীয় পন্ডিত ও বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, শরৎকালীন দুর্গা পুজোর পূর্বেই এই পুজো প্রচলিত। শরৎকালীন দুর্গা পুজো অকাল বোধন হিসেবে পরিচয় লাভ করে।
বাসন্তী দুর্গা পুজোর পৌরাণিক ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে, প্রাচীন বঙ্গদেশের রাজা সুরথ শত্রুর হাতে পরাজিত হয়ে রাজ্যপাট হারিয়েছিলেন। সমাধি নামে এক বৈশ্যও রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। সেই সময় মেধা মুনির আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিলেন রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য। ঋষি মেধা মুনি হারানো রাজ্য ও সম্পদ ফিরে পাওয়ার জন্য দেবী মহামায়া দুর্গার আরাধনা করার সু-পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেটি প্রথম বাসন্তী পুজো বলে পরিচিত হয়ে যায়। ঋষি মেধা মুনির নির্দেশ মেনে রাজা সুরথ ও সমাধি দু-জন নদীর তীরে মাটির মূর্তি গড়ে বসন্তকালীন ঋতুতে দেবী দুর্গার পুজো করেন। মহামায়া দুর্গার আরাধনায় দেবীর আশীর্বাদে রাজা সুরথ রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। পাশাপাশি সমাধি পরম জ্ঞান লাভ করেন।
শরৎকালীন দুর্গা পুজোর পূর্বে ত্রেতা যুগেও এই বসন্তকালীন পুজোর প্রচলন ছিল। এই পুজো বসন্তের ঋতু পরিবর্তনের সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
পুজোর আচার-নিয়ম বিধি শরৎকালীন দুর্গাপুজোর আদলেই হয়। ষষ্ঠীতে “অকাল বোধন” বা দেবীর জাগরণ। এই পুজো “চৈত্র দুর্গাপুজো” বা “বাসন্তী নবরাত্রি” বলেও পরিচিত। উল্লেখ করা যায়, সেন যুগে এই পুজোর চল থাকলেও পরবর্তী সময়ে ১৫৮০ সাল নাগাদ তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ শরৎকালীন দুর্গাপুজোকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন, সেই কারণে বাসন্তী পুজোর অনেকটাই প্রভাব কমে যায় বঙ্গে। তবে প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এখনও বাসন্তী পুজোর গুরুত্ব কমেনি।

