On the path to Mahaprasthan Swami VivekanandaOthers 

মহাপ্রস্থানের পথে

স্বামী বিবেকানন্দ যুবসমাজকে জাগ্রত করেছিলেন। যুবাদের আত্মবিশ্বাস ও দর্শনের পথ দেখিয়েছিলেন। তাঁকে নিয়ে চর্চার সমাপ্তি নেই। ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি তাঁর জন্ম দিবস নিয়ে অনেক উৎসব-অনুষ্ঠান হয়ে থাকে দেশ ও রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে। বিদেশেও তাঁকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো হয়ে থাকে। স্বামীজি নিয়ে অনেক কথা জানা হলেও তাঁর তিরোধান দিবস নিয়ে অনেক কথাই অজানা। সেই কথাই স্বল্প করে তুলে ধরার প্রয়াস রেখেছি মাত্র। ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে ক্ষমা করবেন। শেষ জীবনের পূর্বের দিনগুলিতে আশ্রমের হিসাবটা নিজেই দেখভাল করেছিলেন। এমনকী শিষ্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগও করে দেন। আশ্রমের ভবিষ্যৎ ভাবনায় কাজের গুরুত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন শিষ্যদের। পড়াশুনায় মনোযোগী মানুষটি নিজের ঘরের বই-পত্র-পত্রিকা সহ কাগজপত্র সব নিজেই গুছিয়ে রাখেন। শিষ্যদের উদ্দেশে স্বামীজির বার্তা ছিল- “আমি চাই না, আমার চলে যাওয়ার পর কেউ দুর্বল হয়ে পড়ুক।আমার কাজ তোমাদেরই শেষ করতে হবে।”

সকলেই জানেন তাঁর প্রয়াণ দিবসটি -৪ জুলাই ১৯০২। সেদিন সকালবেলা উঠে তিনি ধ্যান মগ্ন হয়েছিলেন। গীতা ও যোগ নিয়ে শিষ্যদের সঙ্গে একপ্রস্ত কথাবার্তাও বলেছিলেন। সেটা ছিল খুব স্বাভাবিক। শিষ্যদের মধ্যে কেউ আন্দাজও করতে পারেননি। এটাই তাঁর জীবনের অন্তিম দিন হবে, কেউ বুঝতেই পারেননি। সন্ধ্যায় নিজ গৃহে ধ্যানে বসেছিলেন। রাতের দিকে নীরবে-নিঃশব্দে ঘটনাটি ঘটলো। মহাপ্রস্থানের পথে তিনি পাড়ি দিলেন। পড়ে রইলো তাঁর আদর্শ। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “আজই হোক, কালই হোক, শত শত যুগ পরেই হোক, সত্যের জয় হবেই, প্রেমের জয় হবেই। তোমরা কি মানুষকে ভালবাস? ঈশ্বরের খোঁজে কোথায় যাচ্ছ? গরিব, দুঃখী, দুর্বল-সকলেই কি তোমার ঈশ্বর নয়? আগে তাদের উপাসনা করো না কেন?… তোমার হৃদয়ে প্রেম আছে তো? তবেই তুমি সর্বশক্তিমান। তুমি সম্পূর্ণ নিষ্কাম তো? তা যদি হও, তবে তোমার শক্তি কে রোধ করতে পারে? চরিত্রবলে মানুষ সর্বত্রই জয়ী হয়।” আমাদের সবার পথ-প্রর্দশক তিনিই।

Related posts

Leave a Comment