অভাবেও স্বভাব নষ্ট হয়নি- ঘাটালে দৃষ্টান্ত দুই বালকের
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : কুড়িয়ে পাওয়া ৫০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে নজির দুই অভাবী বালকের। সূত্রের খবর, ঘাটালের কোন্নগরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। রাস্তায় খেলা করছিল রাজিবুল ও শাহরুখ নামে দুটি বালক। একজন পঞ্চম শ্রেণি ও অন্যজন ক্লাস ফোরে পড়ে। খেলার সময়েই কুড়িয়ে পায় একটি ব্যাগ। ব্যাগ পাওয়ার পরই রাজিবুলের বাড়ি চলে যায় বালকেরা। ওই ব্যাগ খোলার পরই সকলের চোখ-কপালে ওঠে। ব্যাগে টাকার বান্ডিল রয়েছে। সূত্রের আরও খবর, রাজিবুলের বাবা-মা টাকা পাওয়ার পর জানান, অন্যের টাকা। হাত দিস না। যার টাকা তাঁকেই ফিরিয়ে দিতে হবে। এরপর ব্যাগে টাকার বিষয়টি জানিয়েছিলেন প্রতিবেশিদেরও।
ফেসবুকের একটি পোস্ট থেকেই জানা যায়, ওই টাকার ব্যাগের মালিক রাজু প্রামাণিক। পরবর্তীতে সেই টাকা রাজু প্রামাণিক ফিরে পেয়েছেন। জানা যায়, ব্যাগে ছিল ৫০ হাজার টাকা। গরিব হলেও দুটি পরিবারের মানুষদের সততায় অভিভূত ঘাটাল। ঘাটাল শহরের এই কোন্নগর করোনার আবহে কন্টেইনমেন্ট জোন। বন্ধ ছিল দোকান-পাট। রাস্তাঘাট ছিল সুনসান। রাজিবুল ও শাহরুখের কাছে রাস্তাই হয়ে উঠে খেলার মাঠ। এ বিষয়ে রাজিবুল জানিয়েছেন, আমরা তখন রাস্তায় খেলছিলাম। বাইকের হর্ন শুনে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। একজন বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই বাইক থেকে একটা ব্যাগ পড়ে যায়। আমরা চিৎকার করলেও বাইকটা চলে গেল। আশেপাশে কেউ না থাকায় ব্যাগ নিয়ে বাড়ি গিয়ে কথাটা বলি।
রাজিবুলের বাবা নুর মল্লিক এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ব্যাগটি খুলে দেখি, টাকার কয়েকটি বান্ডিল। রয়েছে কিছু লটারির টিকিট। আমরা বলি, লোকের টাকা। হাত দিও না। যার টাকা তাঁকে ফিরিয়ে দিতে হবে। শাহরুখের বাবা শাহ আলম মল্লিককেও ব্যাগের কথা জানানো হয়। তিনিও একই মত পোষণ করেন। তবে ব্যাগের মধ্যে কোনও ঠিকানা বা ফোন নম্বর ছিল না। কী করে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। প্রতিবেশিদের অনেককেই ব্যাগের কথাটা জানানো হয়। এরপর ব্যাগের মালিকের সন্ধান দিয়েছে ফেসবুকের একটি পোস্ট। স্থানীয় সূত্রে আরও খবর, মেহেতাজ আলির বাড়ি ওই বালকদের পাড়াতেই। মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে তাঁর নজর পড়ে ফেসবুকের একটি ভিডিও। ঘাটালের মসরপুরের লটারির টিকিট বিক্রেতা রাজু প্রামাণিকের পোস্ট ছিল সেটি। এক্ষেত্রে তিনি এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ব্যবসা করেছি। আমরা টাকা-সহ ব্যাগটি পড়ে গিয়েছে। সেটা না পেলে আমি শেষ হয়ে যাব। আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। এরপরই ফিরে পান রাজু প্রামাণিক তাঁর টাকা। ওই বালকদের ও তার পরিবারের প্রশংসাও সবার মুখে মুখে ঘুরছে।

