মাছ রপ্তানি শুরু হওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের চাষিরা স্বস্তিতে
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ফের ভিনরাজ্যে শুরু মাছ রপ্তানি। হলদিয়া, সুতাহাটা ও ময়না-সহ জেলার মাছ চাষিরা অনেকটাই স্বস্তিতে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এখন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ গাড়ি টাটকা রুই, কাতলা, মৃগেল ও আমুরের মতো মিষ্টি জলের মাছ ভিনরাজ্যে যাচ্ছে। বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে যেমন যাচ্ছে, তেমনি আসানসোল ও শিলিগুড়ির মতো বাজারে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, লকডাউন পর্বে বিক্রিবাটা বন্ধ হওয়ায় জেলার মিষ্টি জলের মাছ চাষিরা চরম সমস্যায় পড়েছিলেন। পাশাপাশি অর্থাভাবে মাছের খাবার কেনা বা ব্যাঙ্ক-ঋণ শোধ করা নিয়েও তৈরি হয় সমস্যা।
লকডাউন পর্বের মধ্যেই আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জলও দূষিত হয়ে পড়ে। এর জেরে হলদিয়া, সুতাহাটা ও মহিষাদলের মিষ্টি জলের মৎস্য খামারগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ধাক্কা সামলে মাছ বিক্রি করে এখন অনেকেই ব্যাঙ্ক-ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন। উল্লেখ করা যায়, হলদিয়া, সুতাহাটা ও মহিষাদলে শতাধিক বড় মৎস্য খামার রয়েছে। অন্যদিকে অনেক ছোট খামার ও গ্রামে গ্রামে স্ব-নির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষও হয়। হলদিয়ার নিকটবর্তী নয়াচর দ্বীপে রুই-কাতলা-সহ চিংড়ি ও দেশি মাছের চাষ হয়। আবার নন্দকুমার, চণ্ডীপুর, ভগবানপুর, ময়না ও তমলুকের দুটি ব্লকে ভেড়িগুলিতে মিষ্টি জলের মাছ চাষ হয়। স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, লকডাউনের আগে হলদিয়া ও মহিষাদলের ৩০-৩৫টি মাছের আড়ত থেকে গড়ে ১৫-২০ টন মিষ্টি জলের মাছ রাজ্যের বিভিন্ন বাজার ও ভিনরাজ্যে চলে যেত। জেলা থেকে রপ্তানি হয়েছে রোজ গড়ে ৩০০ টনের মতো মিষ্টি জলের মাছ। এরপর করোনার আবহে একের পর এক আড়ত বন্ধ হয়ে যায়। এমনকী রুই, কাতলা ও মৃগেল ভিনরাজ্যে পাঠানোও বন্ধ হয়ে যায়। খামারগুলিতে মাছ চাষের সঙ্গে জুড়ে-জড়িয়ে থাকা অনেক মানুষের রুটি-রুজিতেও টান পড়ে।

