মহাপ্রভুর মন্দিরের দরজা বন্ধের সিদ্ধান্তে আর্থিক মন্দার মুখে ব্যবসায়ীরা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্বে ভক্ত সাধারণের জন্য খোলার সম্ভাবনা নেই পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের দরজা। এখবর জানিয়েছেন পুরীর মন্দিরের মুখ্য দৈতাপতি রাজেশ দৈতাপতি।
সূত্রের খবর, পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের বহু সেবায়েতরা গত কয়েক মাস ধরে কোভিড আক্রান্ত। পাশাপাশি এই অতিমারীতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জনেরও বেশি সেবায়েত। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই চলতি বছরের বাকি দিনগুলিতে মহাপ্রভুর মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
সূত্রের আরও খবর, করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে পুরীর মন্দির বন্ধ থাকার জন্য জগন্নাথ দেবের মন্দিরের সেবায়েতদের পরিবার আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। ওড়িশা সরকার ওই পরিবার পিছু প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে সাহায্য বরাদ্দ করেছে বলেও জানা যায়। রাজেশ দৈতাপতি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মন্দিরে প্রায় ১০ হাজার সেবায়েত রয়েছেন। ওড়িশা সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়ানোয় সেবায়েতরাও আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারছেন।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই মন্দিরের বাইরের অরুণ স্তম্ভের কাছ থেকে জগন্নাথ দেবের মন্দির দর্শনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল ওড়িশা সরকারের কাছে। তবে করোনা অতিমারীর কারণে এখনও সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি রাজ্য। পাশাপাশি পুরী শহরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে ওড়িশা সরকার।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর কার্তিক মাসে জগন্নাথ দেবের মন্দিরে পুজো-উপাচার হয়। এগুলি দেখতে বহু সংখ্যক ভক্তরা ভিড় জমান মহাপ্রভুর মন্দিরে। প্রশাসন সূত্রে খবর, করোনা অতিমারির কারণে এবার সেই সব বন্ধই থাকবে। অন্যদিকে সমুদ্র সৈকত লাগোয়া হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও মহাপ্রভুর মন্দির বন্ধ থাকার কারণে আর্থিক মন্দার মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

