পঞ্চমী তিথিতেই আরাধনা হয় বাগদেবীর
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নয়। মা-ঠাকুমাদের এমনই নিষেধ ছিল। প্রচলিত রয়েছে- মহামুনি ব্যাসদেবের মাথায় কুল ফেলে আশীর্বাদ করেছিলেন দেবী সরস্বতী। পুরাণের এই কাহিনী মেনে এখনও অনেকেই চলেন। শুক্লা পঞ্চমীর আগে কুল খাওয়া বারণ পড়ুয়ামহলে। এক্ষেত্রে বলা হয়, বাগদেবীকে নিবেদন না করে কুল মুখে তোলা যাবে না।
এই নিষেধ মানা না হলে সরস্বতী রুষ্ট হবেন। পরীক্ষায় ‘ফেল’ অনিবার্য। বর্তমান সমাজে এসব কেউ মানে, আবার কেউ মানে না। কুলের সঙ্গে সরস্বতী সাধনার যোগ নিয়ে পুরাণে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা হল- দেবীকে তুষ্ট করতে বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ব্যাসদেব। সব প্রস্তুতি নিয়ে তপস্যায় বসেন। ওই সময় সরস্বতী তাঁকে বলেন- তপস্যায় বসার আগে তোমাকে একটা শর্ত মানতে হবে। তবেই আমি তুষ্ট হব। ব্যাসদেব অবাক হলেন। জানতে চাইলেন- কী সেই শর্ত। দেবী সরস্বতী তখন ব্যাসদেবের সামনে কুলের একটি বীজ রেখে বলেছিলেন, এই বীজ থেকে গাছ হবে।
ওই গাছের কুল তোমার মাথায় পড়বে, তখনই আমি সন্তুষ্ট হব। এরপর তপস্যায় বসলেন ব্যাসদেব। কুলের বীজ থেকে গাছের জন্ম হল। প্রকৃতির নিয়ম মেনে গাছে কুল ফলল। গাছ থেকে কুল পেকে পড়ল ব্যাসদেবের মাথায়। এরপরই তপস্যা ভাঙল। কুলের নৈবেদ্য সাজিয়ে দেবী সরস্বতীকে অর্পণ করলেন ব্যাসদেব। ওই দিন ছিল পঞ্চমী। সেই পঞ্চমী তিথিতেই আরাধনা হয় বাগদেবীর। অতীতে পুরাণের নিয়ম মেনে এখনও বলা হয়, সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতে নেই।

