নির্বাচনী পরিক্রমা- আজকের জেলা হাওড়া
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বাংলার ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৮ দফা ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র সংখ্যা ১ লক্ষ ১ হাজার ৯১৬টি। একুশের এই নির্বাচনে জেলাওয়াড়ি একঝলক ভোট- চিত্র তুলে ধরছি আমরা।
এবারের জেলা- হাওড়া। নির্বাচনী নির্ঘন্ট- তৃতীয় দফা (৬ এপ্রিল) ৭টি কেন্দ্রে ভোট হবে। এরপর চতুর্থ দফা (১০ এপ্রিল)। এই দফায় ৯টি কেন্দ্রে ভোট হবে। ৬ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে যেসব কেন্দ্রে- উলুবেড়িয়া (উত্তর), উলুবেড়িয়া (দক্ষিণ), শ্যামপুর, বাগনান, আমতা, উদয়নারায়ণপুর ও জগৎবল্লভপুর। ১০ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে সেসব কেন্দ্রে সেগুলি হল- বালি, হাওড়া (উত্তর), হাওড়া (দক্ষিণ), হাওড়া (মধ্য), শিবপুর, সাঁকরাইল, পাঁচলা, উলুবেড়িয়া (পূর্ব) ও ডোমজুড়।
গত বিধানসভা নির্বাচনে যে চিত্র ছিল তা একনজর। বিধানসভা কেন্দ্র ও বিজয়ীরা হলেন- বালি- বৈশালী ডালমিয়া (তৃণমূল), হাওড়া (উত্তর)- লক্ষ্মীরতন শুক্লা (তৃণমূল), হাওড়া (দক্ষিণ)- ব্রজমোহন মজুমদার (তৃণমূল), হাওড়া (মধ্য)- অরূপ রায় (তৃণমূল), শিবপুর- জটু লাহিড়ী (তৃণমূল), সাঁকরাইল- শীতল সর্দার (তৃণমূল), পাঁচলা- গুলশন মল্লিক (তৃণমূল), উলুবেড়িয়া (পূর্ব)- ইদ্রিস আলি (তৃণমূল), উলুবেড়িয়া (উত্তর)- নির্মল মাঝি (তৃণমূল), উলুবেড়িয়া (দক্ষিণ)- পুলক রায় (তৃণমূল), শ্যামপুর- কালীপদ মণ্ডল (তৃণমূল), বাগনান- অরুণাভ সেন (তৃণমূল), আমতা- অসিত মিত্র (তৃণমূল), উদয়নারায়ণপুর- সমীর পাঁজা (তৃণমূল), জগৎবল্লভপুর- মহম্মদ আব্দুল গণি (তৃণমূল) এবং ডোমজুড়- রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল)। উল্লেখ করা যায়, বেশ কয়েকজন তৃণমূলের বিজয়ী প্রার্থী বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন।
জেলা-পরিক্রমা করে স্থানীয় মানুষদের যে দাবি উঠে এসেছে তা হল- হাওড়ায় পুর-পরিষেবায় নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থানের দাবিও উঠেছে। ক্ষুদ্র-মাঝারি ও ভারি শিল্পের প্রত্যাশা। আমতা-উদয়নারায়ণপুরে বন্যা রুখতে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা নিয়েও অভিযোগ। পর্যটন ক্ষেত্রে গড়চুমুক, গাদিয়াড়া ও কালসাপার পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে- হাওড়ার পদ্মপুকুরে কেএমডিএ-র পানীয় জলের প্রকল্প, প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার প্রকল্প, উলুবেড়িয়া উড়ালপুল ও স্টেডিয়াম নির্মাণ, উদয়নারায়ণপুরে সেতু নির্মাণ প্রভৃতি দাবিগুলি রয়েছে। এছাড়া তাঁতের হাট চালু, উলুবেড়িয়া শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি নির্মাণ, ক্যানেল সংস্কার, পার্ক নির্মাণ, উলুবেড়িয়ায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, বীরশিবপুরে লজিস্টিক হাব গঠন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে মেগা প্রকল্প শুরুর বিষয়টি রয়েছে। সামতাবেড়ে শরৎচন্দ্রের বাড়িকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ-খবর নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন মানুষের বিভিন্ন অভিযোগও। ত্রাণ বন্টনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। কর্মসংস্থানের সুরাহা হয়নি বলেও অভিযোগ। করোনা আবহে পরিযায়ী শ্রমিক অসহায় অবস্থায় ছিলেন বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। মিথ্যে মামলা ও পুলিশী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মানুষদের পক্ষ থেকে। শিল্পোন্নত হাওড়া এখন মন্দা অবস্থায় রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে অভিযোগ।
খবরটি পড়ে ভাল লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

