ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’-এর পূর্বাভাস পেতেই সেই চেনা আতঙ্ক
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আম্ফানের বছর পার হলেও শুকোয়নি সেই ক্ষত। নোনাজল প্রবেশ করে বিপর্যস্ত হয়েছে ফসলের ক্ষেত। গাছ-গাছালি ও বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব হারিয়ে স্থানীয় কৃষকরা এখন দিনমজুর। এরপর করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয় মানুষদের এখন বক্তব্য, ‘এলাকায় কাজকর্ম নেই, চাষবাস নেই। জমি-জমা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্র উপকূলবর্তী উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার অনেক জায়গায় এমনই চিত্র চোখে পড়বে। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের অনেক মানুষেরই এরকমই অবস্থা।
সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর অনেকে কাজের খোঁজে এলাকা ছেড়েছিলেন। গত বছর লকডাউনে ফিরে আসতে হয়েছিল অনেককেই। ১০০ দিনের কাজে অনেকেই লেগেছিলেন। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। করোনা আবহের মধ্যেই ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ হয়। স্থানীয় মানুষের এক্ষেত্রে দাবি ছিল কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার। উল্লেখ করা যায়, ২০০৯ সালের পর থেকেই এই দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ। এক্ষেত্রে তাঁদের অভিযোগ, আয়লা ও আম্ফানের পরও একই অবস্থা রয়েছে। পাকা বাঁধ এখনও বেশির ভাগ জায়গায় তৈরি হয়নি। ফের বড়সড় দুর্যোগ হলে ভিটেমাটি হারানো আশঙ্কা বাড়বে। ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’-এর পূর্বাভাস পেতেই আতঙ্ক বেড়েছে এখানকার মানুষের।
উল্লেখ্য, সদ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর সেচমন্ত্রীর দায়িত্বভার নিয়েছেন সৌমেন মহাপাত্র। কংক্রিটের বাঁধ প্রসঙ্গে সেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ সামনে এসেছে। আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ে যাঁদের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাঁদের জন্য ২০ হাজার টাকা করে সরকারি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। ওই টাকা নিয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগও সামনে এসেছে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়। আবার সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ম্যানগ্রোভের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ম্যানগ্রোভের এই আবরণ না থাকলে ক্ষয়-ক্ষতি আরও বেশি হত বলে পরিবেশবিদদের ধারণা। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ অরণ্য তৈরির জন্য বিশেষ নজরও দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই আজও চলছে। ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’-এর পূর্বাভাস পেতেই সেই চেনা আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে সেখানকার মানুষের।
মতামত-সহ লাইক ও শেয়ার করবেন।

