ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রচার শেষে লক্ষ্য অঙ্ক মেলানো
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ এখন চরমে। শেষ লগ্নের প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল ও বিজেপি শিবির। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দুই শিবিরই। এই উপনির্বাচনের প্রচার শেষে এবার লক্ষ্য- অঙ্ক মেলানো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশ বলছেন,শাসক দলই জয়ী হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অপর অংশের বক্তব্য,অনেক হিসাব বদলে দিতে পারে এই নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। বাম প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীরাও রয়েছেন। মূল লড়াই হতে চলেছে তৃণমূল ও বিজেপি শিবিরের, তা আন্দাজ করাই যাচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ ভবানীপুরে। তবে ৩ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের পরই ছবিটা স্পষ্ট বোঝা যাবে।
এই আসন থেকেই ২০১১ সালে বিধানসভা ভোটে জয়ী হওয়ার পর প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সময়ে তিনি সাংসদ ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর উপনির্বাচনে লড়তে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই লড়েছেন তিনি। একনজর দেখে নেওয়া যাক, ভবানীপুর কেন্দ্রে বিগত ভোটের সামগ্রিক চিত্রটি। ওই নির্বাচনে মমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পেয়েছিলেন ৭৩,৬৩৫টি । নন্দিনী মুখোপাধ্যায় ওই নির্বাচনে১৯,৪২২টি ভোট পান। জয়ের মার্জিন ছিল৫৪ হাজার ২১৩ ভোট। ৭৭.৪৬ শতাংশ ভোট পান মমতা । বাম শিবিরের প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ২০.৪৩ শতাংশ ।
২০১৬সালেও ভবানীপুর কেন্দ্রেই লড়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ওই নির্বাচনে ৬৫ হাজার ৫২০ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। শতকরা যা ছিল ৪৮.৫৩ শতাংশ। কংগ্রেস-জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন দীপা দাশমুন্সি। ২৫ হাজার ৩০১ ভোটে পরাজিত করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেবার দীপা দাশমুন্সি ভোট পেয়েছিলেন ৪০,২১৯টি । ওই নির্বাচনটিতে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেননেতাজির প্র-পৌত্র চন্দ্রকুমার বসু। তিনি পান২৬ হাজার ২৯৯ ভোট। শতকরা হিসেবে তা ছিল ১৯.৪৮ শতাংশ।
এরপর একুশের বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুটি কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পরবর্তীতে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ভবানীপুর থেকে তৃণমূল প্রার্থী করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি এই কেন্দ্রে ভোট পেয়েছিলেন ৭৩ হাজার ৫০৫টি ভোট। এই কেন্দ্রে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বিজেপি প্রার্থী হন। তিনি ভোট পান ৪৪,৭৮৬ টি। শোভনবাবু রুদ্রনীলকে পরাজিত করেছেন প্রায় ২৮ হাজারের কাছাকাছি ভোটে। তৃণমূল এই আসনে পেয়েছে ৫৭.৭১ শতাংশ ভোট। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৩৫.১৬ শতাংশ ।
আবার লোকসভার নিরিখে দেখে নেওয়া যেতে পারে ছবিটা। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত বক্সী। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় বিজেপির জমি অনেকটাই শক্ত হয়। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতায় লোকসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন মালা রায়। ভবানীপুরে কড়া লড়াই দিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ হাজার ১৬৮টি । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা
যাই বলুন,সব মিলিয়ে ভোটের ফলাফল নিয়ে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে আম-জনতাকে।

