সঙ্গীত জগতে নামল সন্ধ্যা- প্রয়াত গীতশ্রী
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ। ৯০ বছর বয়সে সুরলোকে চলে গেলেন তিনি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এই বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পীর। গানের জগতে অনন্য ছিলেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, লোকগান, খেয়াল, ঠুংরি সহ আধুনিক গানে তিনি মুগ্ধ করেছিলেন বাঙালি শ্রোতাদের ।
ছোট থেকেই গানের আবহে বড় হয়েছেন। এইচএমভি থেকে রেকর্ড বের হয় কিশোরী বয়েসেই। পরবর্তীতে সিনেমায় প্লে-ব্যাকের সুযোগ এসে যায়। তাঁর প্রথম ছবি “সমাপিকা”। সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন রবীন চট্টোপাধ্যায়। তারপর থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি।
এরপর সুচিত্রা সেনের লিপে গান গেয়েছেন। “অগ্নিপরীক্ষা” ছবিতে গেয়েছেন অসাধারণ গানটি। “মোর ইন্দ্রধনু….” দারুন জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গীতশ্রী হয়ে উঠলেন তিনি। স্বর্ণযুগের গানের মধ্যে সেই গান স্থান পায়। সুচিত্রা সেনের লিপে তাঁর কণ্ঠ মিলেমিশে একাত্ব হয়ে যেত। এই জুটি ইতিহাস তৈরি করে।
গানের জগতে সহজ-সরল একটি মুখ সন্ধ্যা। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ ছিল জাদু মেশানো। বড়ে গুলাম আলি খাঁ-র ছাত্রী ছিলেন তিনি । উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের সুরও তাঁর কণ্ঠে মাধুর্য পেত। আবেগ মাধুর্যে ভরা কণ্ঠ শুনে বাঙালি মুগ্ধ হয়েছে। “কিছুক্ষণ আরও না হয় রহিতে কাছে….”। এমনই বহু গানে তাঁর কণ্ঠ আজও শোনা যায়। সঙ্গীত জগতে নেমে এল সন্ধ্যা।
তাঁর প্রয়াণে একটা যুগের অবসান হল। গীতশ্রী চলে গেলেন। রেখে গেলেন তাঁর বহু গান। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ বাংলা। শোক প্রকাশ করেছেন সঙ্গীত ও সংস্কৃতি মহলের মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকবার্তায় জানিয়েছেন, “কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী, অমর সুরসাধিকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি”।
দশকের পর দশক ধরে অবিস্মরণীয় কণ্ঠ মাধুর্যে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান রয়েছে। যা আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের মন জয় করে রেখেছে। ২০১১ সালে “বঙ্গবিভূষণ”সম্মান পান। ২০১২ সালে “সঙ্গীত মহাসম্মান” পেয়েছেন।
২০১৫ সালে ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলি বিশেষ সঙ্গীতসম্মান পান। ভারত নির্মাণ অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড সহ বহু সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত একাডেমির সভাপতি পদে আসীন ছিলেন।

