ত্রিপুরায় নির্বাচনী উত্তাপ : প্রচারে বঙ্গ নেতৃত্ব
আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি : ত্রিপুরায় রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। একদিকে তিপ্রামোথার চাপ। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়ছেন দলের বেশ কয়েকজন পুরনো মুখ। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে চিন্তায় ত্রিপুরার শাসকদল বিজেপি ৷ এই পরিস্থিতির আবহে ত্রিপুরার বিজেপি নেতৃত্ব বিশেষ বৈঠকে বসলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার উপস্থিতিতে ৷
বিজেপির দলীয় সূত্রের খবর, দলীয় প্রার্থীদের সবকটি আসনে জয় সুনিশ্চিত করতে বার্তা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। একগুচ্ছ পরিকল্পনার পাশাপাশি মানিক সাহা জানিয়েছেন, “এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ৫০-এর বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিজেপি দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, ত্রিপুরার ৪২টি আসনে এবার লড়াই করছে মহারাজার দল। জোট ছাড়াই একক ক্ষমতায় ভোটে লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে। ত্রিপুরার মানুষের দাবি নিয়ে লড়াই করার জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চাইছে তিপ্রামোথা ৷ এই আবহে বিজেপি কিছুটা সমস্যায়।
ভোটের দামামা বাজতেই ত্রিপুরায় জোর টক্কর প্রচারে। চড়ছে সব রাজনৈতিক দলের প্রচারের পারদ। মোদি-মমতা-শাহর উপস্থিতি ঘিরে পরিকল্পনা ও জল্পনা চলছে ত্রিপুরার মাটিতে। বিজেপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় ভোট প্রচার করতে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শান্তির বাজার ও খোয়াইতে সভা করার কথা রয়েছে তাঁর।
বিজেপির দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে,আগামী ১২ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার ভোট প্রচারে ত্রিপুরায় আসার সম্ভাবনা শাহের। চড়িলাম ও চন্ডিপুর বিধানসভা আসনে নির্বাচনী জনসভা করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। আবার ৬ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় প্রচারে উপস্থিত থাকার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের,তৃণমূলের দলীয় সূত্রে এমনটাই খবর।
বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়,১১ফেব্রুয়ারি আমবাসা ও উদয়পুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফের রাজ্যে আসার সম্ভাবনা নরেন্দ্র মোদীর। উল্লেখ্য,ত্রিপুরায় ফের ক্ষমতা ধরে রাখতে পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের উপরেও ভরসা রাখছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ত্রিপুরা জুড়ে প্রচার অভিযানে শুভেন্দু-দিলীপ-মিঠুনদের রেখেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ৪০ জনের নামের তালিকায় বাংলার কয়েকজন পদ্ম নেতাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পাশাপাশি তৃণমূলের দলীয় সূত্রের খবর,ত্রিপুরা বিধানসভার ৬০টি আসনের মধ্যে ২৮ টি আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে তৃণমূল। প্রচারে রয়েছেন ৩৭ তারকা প্রচারক। সেই তালিকায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়,মুনমুন সেন সহ একাধিক বঙ্গ নেতৃত্ব। ত্রিপুরা নির্বাচনের প্রচারে বাকি আর ১২ দিন। ত্রিপুরায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিলেও কংগ্রেসে ফিরে যাওয়া সুদীপ রায় বর্মণের আসনটিতে প্রার্থী দেয়নি তৃণমূল।
এই মুহূর্তে প্রচারের আলোয় থাকা তিপ্রামোথার প্রধান মহারাজা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য-র বক্তব্য, “নিজের দক্ষতাতেই তিপ্রামোথা বিধানসভা ভোটে লড়াই করবে। আমরা কারও সঙ্গে সমঝোতা করছি না। জনজাতি মানুষের স্বার্থে আমরা মানুষের সাথে কোনও সমঝোতায় আমরা যাব না।” অন্যদিকে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা করেছে বাম-কংগ্রেস জোট। প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করেছে উভয় রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। (ছবি: সংগৃহীত)

