Bibhuti bhusanEducation Entertainment Others Travel 

বন-বনানী-র হাতছানি

ব্যস্ত কোলাহল ছেড়ে কখনও কখনও জঙ্গলে যেতে মন চায়।বন-বনানী যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। গাছের ছায়াতলে ক্ষণিক বসতে ইচ্ছে করে অনেকের। একটু বিশ্রাম আর কি! জঙ্গলময় শোভা দেখতে অনেকেই বেড়িয়ে পড়েন। সব গাছের নাম জানা থাকুক আর না থাকুক। ঘন জঙ্গলের গভীরে কারও হাঁটতে দেখেছেন। মন ভরানো পরিবেশে মুগ্ধ না হয়ে আপনি পারবেন না। জঙ্গলের পাশে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে একটু প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার ইচ্ছা জাগতেই পারে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা “আরণ্যক” যদি পড়ে থাকেন জঙ্গল ও বন-বনানীর একটু অনুভূতি পেতেই পারেন। সবুজের নির্যাস পাওয়ার জন্য প্রকৃতি প্রেমিক বিভূতির এক অনন্য লেখনী । যাঁরা পড়েননি তাঁরা পড়ে নিন সবুজের হাতছানি পেতে। সত্যচরণের শহুরে জীবন।
কোলাহলের সেই জীবন ছেড়ে ঘন জঙ্গলের গভীরে আসা। সে এক নতুন জগৎ আবিষ্কারের গল্প। গ্রন্থের প্রতিটি পাতায় জীবন্ত হয়ে ওঠে বন-জঙ্গলের ছবি। বিভূতিভূষণের বর্ণনার জাদুতে জঙ্গল জীবন্ত হয়ে উঠে। সত্যচরণ এক চরিত্র। শুরুর দিকে জঙ্গলের নির্জনতা তাঁকে অবসাদে ভরিয়ে দেয়। পরে সেই নির্জন প্রকৃতি-পরিবেশ সত্যচরণের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। গাছপালা,পশু-পাখি আর সরল হৃদয়ের মানুষগুলোর মাঝে সে খুঁজে পায় এক নতুন জীবনের পথ। “আরণ্যক” শুধু জঙ্গলের গল্প নয়, বাস্তব হয়ে ধরা দিতে পারে জীবনে।

প্রকৃতির নিস্তব্ধতায় ডুব দিতে মন চাইলে আরণ্যক আপনার জীবনের সঙ্গী হতে পারে। লেখক নির্জনে বসবাস করতে ভালো বাসতেন। বিহারের ঘাটশিলার বাড়িটিতে বাকি জীবন কাটানোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন । চারপাশে বনাঞ্চল বেষ্টিত। এলাকা ছিল প্রায় জন-মানবশূন্য। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে হাঁটতেন নির্জন এলাকা দিয়ে। প্রকৃতির টানে প্রতিদিন বনাঞ্চলের পথ ধরে হাঁটতেন ।”আরণ্যক” স্রষ্টা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,”জীবন থেকে বড় একটা রোমান্স বেঁচে থেকে একে ভোগ করাই। অতি তুচ্ছতম,হীনতম,একঘেয়ে জীবনও রোমান্স।

Related posts

Leave a Comment