ঐতিহ্যশালী প্রাচীন বালুচরি শাড়ির অবলুপ্ত ডিজাইনের খোঁজ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বালুচরির হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ৯টি ডিজাইন পুনরুদ্ধার হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, হারিয়ে যাওয়া সম্পদকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলেছে। এ বিষয়ে জানা গিয়েছে, সপ্তদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর হারিয়ে যাওয়া বাংলার বালুচরি শাড়ির ৯টি ডিজাইন পুনরুদ্ধার করেছে তন্তুজ। সূত্রের খবর অনুযায়ী আরও জানা গিয়েছে, ওই সুক্ষ্ম নকশায় ফুটে উঠল বাংলার প্রাচীন দিনলিপির বিষয়। পাশাপাশি মিলেছে নবাবি আমলের বনেদিয়ানাও।
দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বিদেশী বাজারে এই মূল্যবান বালুচরির চাহিদাও রয়েছে। সূত্রের আরও খবর, আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া-সহ কয়েকটি দেশে পাড়ি দিল এই শাড়ি। সরকারিভাবে এ বিষয়ে জানা গিয়েছে, চাহিদা বাড়লে বাংলার শিল্পীরা উপকৃত হবেন। এক্ষেত্রে জানা যায়, বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁয়ের হাত ধরে ঐতিহ্যশালী বালুচরি শাড়ির প্রসার বেড়েছিল। ঢাকা থেকে তিনি মুর্শিদাবাদের বালুচরি উৎপাদন শুরু করেন। এরপর তা স্থানান্তরিত হয়েছিল মল্লরাজাদের রাজধানী বিষ্ণুপুর শহরে। বাংলার বালুচরি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছিল। এরপর বালুচরির একাধিক ডিজাইন অবলুপ্ত হয়ে যায়।
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেক প্রবীণ শিল্পীরাও আর বেঁচে নেই। এক্ষেত্রে পুরনো নকশাগুলি ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছিল। এ বিষয়ে তন্তুজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বালুচরির অবলুপ্ত ডিজাইনগুলি পুনরুদ্ধার করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তন্তুজকে। তাঁর নির্দেশ মেনেই ২০১৬ সাল থেকে এই কাজে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সব পুরনো ডিজাইন খুঁজতে বিভিন্ন শিল্পীদের বাড়ি ও রাজ্যের একাধিক মিউজিয়ামে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু হয়েছিল। হারিয়ে যাওয়া ডিজাইনের সন্ধান পাওয়া যায়। তন্তুজ সূত্রের আরও খবর, ডিজাইনাররা প্রতিটি ডিজাইনের ছবি তুলে তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। তৎকালীন সময়ে যেভাবে শাড়ি বোনা হয়, এখন সেই পদ্ধতিও আর নেই। এরপর নানা পদ্ধতিতে প্রতিটি ডিজাইনকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, একাধিক নবাবি নকশা রয়েছে। এছাড়া কোথাও আবার ঘোড়ার পিঠে চড়ে নবাব ভ্রমণে বেড়িয়েছেন। সারিবদ্ধ সৈন্যদল-সহ নানা বিষয়ও রয়েছে। আবার সেই সময়ের বিভিন্ন জীবনযাত্রার ছবিও দেখা যায়। তন্তুজ সূত্রে আরও বলা হয়েছে, সপ্তদশ, অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রায় ৯টি অবলুপ্ত ডিজাইন পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এই বালুচরি শাড়ির দাম বর্তমান বাজারে কয়েক হাজার টাকা।

