campaing and endOthers Politics 

একুশে বঙ্গ ভোটের প্রচারে নানা ঘটনার সাক্ষী আম-জনতা

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:দেড় মাস ধরে হুইলচেয়ারে প্রচার করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় ২০টি নির্বাচনী সভা করেছেন। বামেদেরও চমক ছিল। বঙ্গের ভোট প্রচারে আজই যবনিকা। লক্ষণীয় বিষয়- বিধানসভার ভোটে তৃণমূল বিজেপি-র নেতা-নেত্রীরা প্রচারে ঝড় তুলেছেন। আবার গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজ্যে একটি জনসভা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি ৷

তারকা বা হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীদের নিয়ে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়েছে হেলিকপ্টার ৷ উল্লেখ করা যায়, নিয়ম মতো আজ শেষ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার ৷ আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে অষ্টম তথা শেষ দফার নির্বাচন হবে ৷ কমিশনের নিয়ম মেনে ৭২ ঘণ্টা আগে শেষ হতে চলেছে প্রচার অভিযান ৷

উল্লেখ্য,যে ৫টি রাজ্যে নির্বাচন ছিল, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়েই উৎসাহ ও আগ্রহ তৈরি হয় গোটা দেশে ৷ সেই আগ্রহ আরও চূড়ান্ত মাত্রা পায়। প্রায় একটানা ৪৪ দিন ধরে হুইলচেয়ারে বসেই বাংলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় তাঁর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইকে ঘিরে গোটা দেশের নজর ছিল ৷

অন্যদিকে এই নির্বাচনে বিজেপি-র হয়ে প্রায় ২০টি জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ রীতিমতো প্রথম ৫ দফায় নিয়ম করে ভোটের দিন রাজ্যে একাধিক জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ৷ পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে প্রচারে সামিল হয়েছেন ৷ বিজেপি-র পক্ষে অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী বাকযুদ্ধ গত দেড় মাস ধরে বঙ্গবাসী দেখেছেন ৷ উপভোগও করেছেন বাংলার আম-জনতা।

নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জে পি নাড্ডা ছাড়াও যোগী আদিত্যনাথ এসেছেন বঙ্গের প্রচারে। দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনেকেই প্রচার ময়দানে স্বমহিমায় ছিলেন। রাজ্যের শাসক দলের মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের তাবড় নেতারা মাঠে নেমেছেন বিজেপির পক্ষে। অন্যদিকে তৃণমূলের হয়ে প্রায় সব আক্রমণের জবাব দেওয়ার ভার ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দায়িত্ব নিয়েছেন ৷

আবার বিজেপি মিঠুন চক্রবর্তীকে মাঠে নামাতেই পাল্টা মুম্বাই থেকে জয়া বচ্চন প্রচারে এসেছেন শাসক দলের হয়ে। আবার তৃণমূলের হয়ে বেশ কিছু জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলের তারকা সাংসদ দেব ও নুসরত জাহানরা ৷
রাজ্যে প্রচারে একেবারেই আসেননি প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বরদা ৷ করোনা অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় একপ্রকার বন্ধই করে দিতে হল প্রচার ৷

এই নির্বাচনে সুবক্তা হিসেবে প্রচারের আলোয় উঠে এলেন নন্দীগ্রামের সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ৷ মমতা, শুভেন্দুর মতো হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন মীনাক্ষী। দৃঢ়তা ছিল তাঁর বক্তব্যে। ভবিষ্যতের রাজনীতিতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সহ সাধারণ মানুষ।

হুইলচেয়ারে চড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরপর জনসভা রাজ্যের নির্বাচনে বিশেষ আলোচিত বিষয় ৷ আবার নির্বাচন কমিশনের শাস্তির কোপে পড়ে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসা। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহদের বিরুদ্ধেও বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল ৷ প্রধানমন্ত্রীর মুখে “দিদি ও দিদি” কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রীর মুখে “বহিরাগত” আক্রমণ সব মিলিয়ে চর্চায় ছিল।

ভোট পর্ব চলাকালীন বাছাই কিছু উক্তি শোনা গিয়েছে। বেশ কিছু শব্দবন্ধের মুখোমুখি হয়েছে সমগ্র বাংলা ৷ জনপ্রিয়তায় টেক্কা দিয়েছে “খেলা হবে” স্লোগান ৷ তৃণমূল, বিজেপি, বাম শিবির সহ কংগ্রেস- পরস্পরকে বিঁধতে “খেলা হবে” স্লোগানই হাতিয়ার হয়ে ওঠে ৷

জনসভা থেকে গরমাগরম ভাষণ যেমন ছিল তেমনি চোখ ধাঁধানো রোড শো-ও ছিল। এবার ভোটে প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে দেখা যায় ছোট অ্যানিমেশন ভিডিও। বিজেপি পাল্টা বেলা চাও-এর অনুকরণে তৈরি “পিসি যাও” গানকে অস্ত্র করেছে ৷ প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তার নিরিখে প্রতিপক্ষদের শিবিরকে টেক্কা দিয়েছে বাম শিবির ৷ দুই প্রতিপক্ষকে বিঁধে “টুম্পা”, “লুঙ্গি ডান্স”-এর প্যারোডি গানে বামেদের তরুণ ব্রিগেড চমক দিয়েছে ৷ প্রচারে অনেক কেন্দ্রে হাজির হয়েছিল বামেদের হল্লা গাড়ি ৷

প্রচারের এই দুর্দান্ত ঝড় লাগাম টেনে দিয়েছে করোনার দ্বিতীয় দফার ঢেউ। বিধি না মানার জন্যই বাংলায় সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। করোনা সংক্রমণের জেরে মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের তিন প্রার্থীরও ৷ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন অনেক প্রার্থীও ৷ এবার একুশে বঙ্গ ভোটে প্রচার পর্বে নানা ঘটনার সাক্ষী থাকল আম-জনতা। এবার নজর থাকবে ২ মে তারিখটির দিকে।

মতামত সহ লাইক ও শেয়ার করবেন।

Related posts

Leave a Comment