২৫ ডিসেম্বর যীশুর জন্মদিন এবং তার তাৎপর্য
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : মেরি ক্রিসমাস। ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয়ে থাকে যীশুর জন্মদিন। এই দিনটির একটি তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। এক্ষেত্রে জানা যায়, রোমের প্রথম ক্রিশ্চান রাজা কনস্ট্যানটাইন এই দিনটি যীশুর জন্মদিন হিসেবে পালন করার প্রথম নির্দেশ দিয়েছিলেন।পরবর্তী দিনে কয়েক বছর পর পোপ জুলিয়াস মেনে নিয়েছিলেন কনস্ট্যানটাইনের এই বিধান। করোনা আবহে এ বছর সবদিক থেকেই ভিন্ন। সারা বিশ্বব্যাপী বড়দিন এবার কাটছাঁট করা হয়েছে। কেক, পেস্ট্রি, ওয়াইন প্রভৃতি থাকবে। তবে থাকবে না সেই চেনা মেজাজ। এই বিশ্ব এবার অচেনা। গির্জায় বেল বাজবে, ফাদার ও বিশপরা প্রভু যীশুকে স্মরণ করবেন।
বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন, কেন এই দিনটি যীশুর জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বেথলেহেমে যীশুর জন্ম। মা মেরি এবং বাবা জোসেফ। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে,এই সময়ের গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার সেইসময়ে ছিল না। বাইবেলেও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই যীশুর জন্মের দিন। অন্যদিকে রোমের প্রথম খ্রিস্টান রাজা কনস্ট্যানটাইন এই দিনটি যীশুর জন্মদিন হিসেবে পালন করার প্রথম নির্দেশ দেন। কয়েক বছর পরে পোপ জুলিয়াসও মেনে নিয়েছিলেন কনস্ট্যানটাইনের বিধান। এরপর থেকে ২৪ ডিসেম্বর ক্রিসমাস ইভ, ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস এবং ২৬ ডিসেম্বর বক্সিং- ডে হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এক্ষেত্রে মনে করা হয়, ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন নিজেকে উৎসর্গ করার জন্যই । মানবতাকে উদ্ধার এবং পাপমুক্ত করার জন্যও। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ক্রিসমাসের এই দিনটি ধর্মীয় ছুটি এবং বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। অন্য ধর্মেরওবহু মানুষএই দিনটি পালন করে থাকেন।
এ বিষয়ে আরও জানা গিয়েছে, খ্রিষ্টধর্মের প্রারম্ভে বছরগুলিতে ক্রিসমাস নয়, ইস্টার ছিল প্রধান ছুটির দিন। পরবর্তীতে চতুর্থ শতাব্দীর সময় গির্জার আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শীতকালীন উৎসব এর পাশাপাশি যীশুর জন্মকে একটি ছুটির দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার পর থেকেই এই ২৫ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে।
তবে অনেকেই এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। অনেকেই মনে করেন,প্রভু যীশু ডিসেম্বর মাসে জন্মগ্রহণ করেননি। প্রভু যীশু জন্মেছিলেন অক্টোবর মাসে। এ বিষয়ে চর্চা করা বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের বক্তব্য, পেগান চার্চ যা আদি চার্চ হিসাবে খ্যাত সেই সূত্রে বলা হয়েছে, রোমের মানুষেরা ২৫ ডিসেম্বর দিনটি সূর্য দেবতাকে বন্দনা করতো। তীব্র শীতে জমে যাওয়া ডিসেম্বরে সূর্যের কিরণ চেয়ে প্রার্থনা করা হতো। পরে খ্রিষ্টধর্মের প্রচার বাড়তে থাকায় অন্য ধর্মের মানুষেরা আকৃষ্ট হওয়ার পরে ওই সময় থেকে এই দিনটি যীশুর জন্মদিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।

