প্ল্যাটফর্ম পাঠশালা থেকেই উত্তরণ প্রীতির
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : দমদম স্টেশনে শুরু পড়াশোনা। এখন ডব্লুবিসিএস-এর প্রস্তুতি নিতে চলেছেন প্রীতি কুমারী। সূত্রের খবর, স্টেশনের ঘোষণা, ট্রেনের হুইসেল-সহ যাত্রীদের ব্যস্ততা ও কোলাহলেই তাঁর পড়াশুনা। স্টেশনই কুড়ি কন্যার এগিয়ে চলার পথ। ওই সব কন্যাদের অন্যতম একজন হলেন প্রীতি। এই প্ল্যাটফর্ম পাঠশালা থেকেই তাঁর উত্তরণ। এখানেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরনো। বর্তমানে ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন তিনি।
সূত্রের আরও খবর, করোনা আবহে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ। দমদমেই এক নিরাপদ আশ্রয়ে দিন চলে যাচ্ছে ওইসব পড়ুয়াদের। ট্রেন চালু হওয়ার পরই ফের শুরু হয়ে যাবে ‘প্ল্যাটফর্মের পাঠশালা’। উল্লেখ্য, দমদম স্টেশনে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে হকার্স ইউনিয়নের সামনে কাপড় দিয়ে ঘিরে শুরু হয়েছিল ওই পাঠশালা। আবার স্টেশনের বাইরের চাতালে সতরঞ্চী পেতে চলতে থাকে পঠন-পাঠন। এরপর সন্ধ্যায় মেট্রোর টিকিট কাউন্টারের বিপরীতে চলে আসে সেই পড়াশোনার আসর।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, স্টেশনে পড়াশোনা করেই প্রীতি এখন ডব্লুবিসিএস হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য, এতদূর পর্যন্ত আসা গিয়েছে কান্তা দিদিমণির জন্যই। জানা যায়, ১৩ বছর আগে কান্তা চক্রবর্তীর কাছে ভিক্ষা চেয়েছিল কয়েকজন কঁচিকাচা। ওই সময় বেহালার একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা কান্তাদেবী তাঁদের বলেছিলেন, ভিক্ষা না করে পড়াশুনা করার কথা। এমনকী তাঁদের পড়াশুনার উদ্যোগও গ্রহণ করেন। কান্তাদেবীর সেই কথায় রাজি হয়ে যায় কন্যারা। সেই থেকে পথচলা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এবছর কান্তাদেবীর পাঠশালা থেকে ৫ জন মাধ্যমিক পাশ করেছে। অন্যান্যরা দশম, একাদশ, দ্বাদশ, চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। প্রীতিই সব পড়ুয়াদের মধ্যে বড়। আরও জানা যায়, ক্যারাটেতে একাধিক বেল্ট অর্জন করেছে ওই পাঠশালার কন্যারা। পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কারও জয়ী হয়েছে ওই মেয়েরা। পড়ুয়াদের এই সাফল্যই এগিয়ে চলার মন্ত্র, এমনটাই জানান শিক্ষিকা কান্তা চক্রবর্তী।

