ayushgram and durgaOthers 

প্রাচীনকাল থেকেই সম্প্রীতির ছবি ফুটে উঠছে জঙ্গলমহলের দুর্গাপুজোয়

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: জঙ্গলমহলের মা দুর্গার কাছে হিন্দু-মুসলমান কোনও ভেদাভেদ নেই। এখানে পুজো হয় পারিবারিক পুঁথি মেনে। আদিবাসী, ব্রাহ্মণ, মুসলিম আনন্দে ও উল্লাসে মেতে ওঠে। মিলেমিশে যান সবাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেই ছবি ফুটে ওঠে।
সূত্রের খবর, শিক্ষার আলো সেভাবে না থাকলেও বর্ধমানের জঙ্গলমহল সেই লক্ষ্মণরেখা মুছতে পেরেছিল। সেখানে নিচু জাতের স্পর্শ ছাড়া পুজো সম্পূর্ণ হয় না সেই তখন থেকেই।সূত্রের আরও খবর,জঙ্গলময় আউশগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম উত্তর রামনগর। ১২৮ বছর পূর্বে বীরভূমের আদিত্যপুর থেকে এই গ্রামে এসেছিলেন চট্টোপাধ্যায় পরিবার। দরিদ্রতম আদিবাসী থেকে শুরু করে খোট্টাদরিয়াপুরের মুসলিম বা দেবীপুরের বেদে বা মাল সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা থাকেন মিলেমিশে। এখানকার বাসিন্দারা শান্তিপ্রিয় ও কলহবিমুখ। জীবন সংগ্রাম চালিয়ে প্রকৃতির কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছেন সেখানকার মানুষ।মৌলবি ডেকে বিবাহ পর্বের শেষে নববধূকে শাঁখা সিন্দুর পরিয়ে দেওয়ার কথাও শোনা গিয়েছে। খাদ্যে কোনও বাছবিচার থাকে না। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দিকে সহযোগিতার হাতই বাড়িয়ে দিয়েছিল এখানকার এই আদি বাসিন্দারা। কালাচাঁদ চট্টোপাধ্যায় ও কিরণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জমিদারি কেনার পর টিনের ছাউনির মণ্ডপ তৈরি করে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন বলে জানা যায়। শুরু থেকেই পুজো মণ্ডপ সকলের জন্যই খোলা ছিল। পুজোর প্রাথমিক পর্ব শুরু হয় পারিবারিক পুঁথি পড়ার মাধ্যমে।জানা যায়, সপ্তমীতে সাত, অষ্টমীতে আট এবং নবমীর দিনে ৯রকম ভাজা ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়। আবার দশমীর দিন কাহারদের সকলকে এক কুইন্টাল চালের ভোগ রেঁধে মন্দির চত্বরে বসিয়ে খাওয়ানো হতো। দশমীর সিন্দুর খেলা পর্বের পর এখনও দেবী নিরঞ্জনে যান কাহারদের কাঁধে চেপে। দেবীকুণ্ডের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমাকে। এছাড়া বনেদি বাড়ির প্রতিমাও নিয়ে আসা হয় এখানে । এই পুজোকে ঘিরে মিলে-মিশে একাকার হয়ে যান মানুষ।

Related posts

Leave a Comment