পূর্ব বর্ধমান জেলা : কৃষকরা সেচের জল পাবেন
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: রবিশস্য ও বোরোচাষের প্রয়োজনে সেচের জল পাবেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষকরা। স্থানীয় সূত্রের খবর,জলাধার মেরামতির কারণে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে পূর্বেই সব জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার জল পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল কৃষকদের মনে।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, ধান কাটা, ধান ঝাড়ার পর এখন সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির কাজ চলছে পুরোদমে। এই অবস্থায় বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষকরা। এবার সেই চাষের জন্য সেচের জল কতটা পাওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন কৃষকরা। উল্লেখ করা যায়, জলাধার মেরামতির কারণে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে সব জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই এবার জল পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল কৃষকদের মনে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন পূর্বেই জানিয়েছিল, জল পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা তৈরি হবে না। এবার বোরো চাষের জন্য সেই জল ছাড়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় ভাবে আরও জানা গিয়েছে,রবি ও বোরোচাষের জন্য ডি ভি সি’ র জল ছাড়া নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বর্ধমানে। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন ৫ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বর্ধমানের সার্কিট হাউসে এই সভা হয়েছে বলে জানা যায়। পূর্ব বর্ধমান,পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া,হুগলি ও হাওড়া জেলার প্রশাসনিক কর্তা-ব্যক্তিরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।প্রশাসন সূত্রের খবর, মোট ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ফিট জল এবার সেচের জন্য পাওয়া সম্ভব। তাতে মোট ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০ একর জমি সেচ সেবিত করা যাবে । প্রশাসনিকভাবে জানা গিয়েছে,এ মরশুমে এই জেলায় মোট ৭৮ হাজার একর জমিতে কৃষকরা জল পাবেন। রবি চাষে জল দেওয়া হবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে। বোরো চাষের জল পাওয়া যাবে ২৭ জানুয়ারি থেকে। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ধাপে ধাপে জল দেওয়া হবে বলে জানা যায়।
পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক সূত্রে জানানো হয়েছে,একই রকমভাবে এবারেও জল দেওয়া হবে। এবিষয়ে জেলা পরিষদের সেচ স্থায়ী সমিতি আলোচনা করে বিস্তারিত সূচি তৈরি করবেন। কোন ব্লকে কবে জল দেওয়া হবে তা কৃষকদের সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে। আবার সেচ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, রবি শস্যের জন্য প্রায় একমাস জল দেওয়া চলবে। প্রতিক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ দিন জল দেওয়া হবে। বিরতির পর আবারও জল দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

