কাটোয়ার মঙ্গলকোটে মৎস্যচাষিরা ‘পেংবা মাছ’ চাষে উদ্যোগী
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ এবার লুপ্তপ্রায় পেংবা মাছ চাষে উৎসাহ। স্থানীয় সূত্রের খবর, সরকারি পরিকল্পনায় পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু স্থানে শুরু হল এই মৎস্য চাষ। কাটোয়ার মঙ্গলকোটের বহু মাছচাষি এই পেংবা মাছ চাষ করছেন। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই ওই মাছ বাজারজাত করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মাছের চাহিদার বিষয়ে বেশ আশাবাদী মৎস্য বিজ্ঞানীরাও। প্রসঙ্গত, পেংবা মাছ অনেকটা ইলিশের মতো খেতে। এক্ষেত্রে ইলিশের বিকল্প হিসেবে এই মাছের চাহিদা বেড়েই চলেছে।
মৎস্য আধিকারিক সূত্রের খবর, চিনের ইউহান প্রদেশের নদী-হ্রদ, মায়ানমারের চিনদুইন এবং মণিপুরে পেংবা মাছ মূলত পাওয়া যায়। মাছটি দেখতে অনেকটা বড় পুঁটি মাছের মতো। আবার স্বাদে অনেকটা ইলিশের মতোই। জানা যায়, মণিপুরে এই মাছের চাহিদা খুব। সেখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে-জড়িয়ে রয়েছে এই মাছ। সূত্রের আরও খবর, জামাইষষ্ঠীর সময়ে এ রাজ্যে জামাইদের খাওয়ার পাতে ইলিশ দেওয়ার চলন রয়েছে। মনিপুরে নিগোল চৌকবা বা জামাইষষ্ঠীর মতো অনুষ্ঠানে পেংবা মাছ খাওয়ানোর রীতি-রেওয়াজ রয়েছে। যার জন্য মণিপুরে পালিত হয়ে থাকে ‘পেংবা দিবস’।
আরও জানা যায়, ওই রাজ্যে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত কেজি প্রতি দামে পেংবা মাছ বিক্রি হয়ে থাকে। মৎস্যবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই মাছ লুপ্তপ্রায় প্রজাতির। ওড়িশার সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্রেস ওয়াটার অ্যাকোয়া কালচারের মৎস্য বিজ্ঞানীরা এই মাছের কৃত্রিম প্রজনন ঘটাতে সফল। অন্যদিকে মৎস্য দপ্তরের সাহায্যে কাটোয়ার মঙ্গলকোট ব্লকে এই মাছের চাষ শুরু হয়েছে। এলাকায় এই মাছ চাষে উৎসাহও ব্যাপক।

