একাধিক রোগের মুক্তিতে উপকারী হলুদ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে চাই হলুদ। সকল কাজে হলুদের ব্যবহার হয়ে থাকে। হলুদ কাঁচা ও শুকনো দুটি অবস্থাতেই ব্যবহারের উপযোগী। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, প্রত্যহ খালিপেটে অল্প পরিমাণে কাঁচা হলুদ বা শুকনো হলুদ চূর্ণ ১-২ গ্রাম পরিমাণে খেতে পারলে অনেক রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কী-কী রোগে বা কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এবার তা নিয়ে আলোচনা যেতে পারে।
কাঁচা হলুদে ভিটামিন-সি থাকে তাই প্রাথমিকভাবে এটি উপকারী। আবার কাঁচা ও শুকনো হলুদে কারকুমিন যৌগ থাকে তাই হলুদ অতি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ব্যবহার করতে পারলে সবদিক থেকেই উপকার পাওয়া যায়।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, হলুদ কটু ও তিক্ত রস সমৃদ্ধ, রুক্ষ, কফ-পিত্তদোষ নাশক। আবার বর্ণপ্রসাদক, কান্তিদায়ক ও সংশোধক। এছাড়া এটি রক্তপিত্ত, শীতপিত্ত, ব্রণ, বিষদোষ, সর্বপ্রকার প্রমেহ, শোথ, রক্তহীনতা দূর করে। পাশাপাশি সর্বপ্রকার চর্মরোগ, কুষ্ঠ, কৃমি, পীনস, অরুচি, আমদোষ, রক্তদুষ্টি, বিসর্প, কফ-পিত্তজ রোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
অন্যদিকে বিজ্ঞানের গবেষণায় হলুদ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে- হলুদ অ্যান্টি-অ্যালার্জিক, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, অ্যান্টি-টিউমার, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি, অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক, অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ও অ্যানালজেসিক গুণসম্পন্ন। এক্ষেত্রে আরও জানানো হয়েছে, হলুদে প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ফোলেট, নিয়াসিন, পাইরিডক্সিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, কপার এবং ভিটামিন-সি, ই, কে প্রভৃতি ভাল পরিমাণে রয়েছে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, হলুদে কোলেস্টেরল নেই। হলুদের ব্যবহারে কোলন, লিভার, প্রস্ট্রেট ও ব্লাড ক্যান্সার প্রভৃতি সহজে আসতে পারে না। এটি প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। কারকুমিন যৌগটি খুবই শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যার প্রভাবে নানাবিধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরে সৃষ্টি করে। মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপকে এটি প্রতিহত করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে আরও বলা হয়, ফুলকপির সঙ্গে হলুদ গুঁড়ো দিয়ে রান্না তরকারি প্রস্ট্রেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।
আবার পেঁয়াজ-রসুনের সঙ্গে হলুদের ব্যবহার কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। কাঁচা হলুদ নিয়মিত খেলে ব্লাড ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। অ্যালঝাইমার্স রোগে হলুদের ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি গবেষণা চলছে। এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, হলুদ ও আমলকী চূর্ণ সমপরিমাণে মিশিয়ে ২-৩ গ্রাম পরিমাণে সকাল ও সন্ধ্যায় খালিপেটে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া রক্তাপ্লতা, অ্যালার্জি, অ্যালার্জেটিক ডারমাটাইটিস, কৃমি, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, চর্মরোগ, কোষ্ঠবদ্ধতা ও লিভারের সমস্যা-সহ নানা রোগে উপকারী এই হলুদ।

