ভয়ঙ্করা রূপ হলেও ভক্তের কাছে কালী মা দয়াময়ী
কালী মায়ের দর্শন পাওয়া মুখের কথা ! কালী সাধকরা মায়ের দেখা পেয়েছিলেন।”যতনে হৃদয়ে রেখো আদরিণী শ্যামা মাকে” । শ্রীরামকৃষ্ণের জীবন্ত কালী হলেন ভবতারিণী। রামপ্রসাদ শবসাধনায় কালীর দর্শন পেয়েছিলেন। আবার সাধক কমলাকান্ত অলৌকিক দেবী দর্শন করেছিলেন। তারাপীঠের মহাশ্মশানে বামাখ্যাপার মাতৃদর্শন হয়েছিল। সাধকদের কালীরূপ অন্তরে জেগেছে। তাই জীবন আনন্দ সাগরে ভেসে যায়। মা কালী করালবদনা। মায়ের অতি ভয়াল রূপও দেখা যায়। কালী মায়ের রূপের বর্ণনা করতে গিয়ে ঝড়ের মেঘের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। গায়ের রং ঝড়ের মেঘের ন্যায়। দু-নয়ন ক্রোধ ভরা।
ভয়ঙ্কর-ভয়াবহ লোলজিহ্বা। মনোমোহিনী এলোকেশী। পরনে ব্যাঘ্রচর্ম। হাতে উদ্যত খড়্গ সহ হুঙ্কার।
দেবী কালীর রূপ বর্ণনায় তাণ্ডব নৃত্যের কথাও উল্লেখ পাওয়া যায়। মা কখনও অট্টহাসিতে মত্ত। কালীর ভীষণ রূপ উল্লেখে সঙ্গীতের মূর্ছনা শোনা যায়,”সমরে নাচেরে কার এ রমণী,নাশিছে তিমিরে তিমিরবরণী।”….ভয়ঙ্করা রূপ হলেও ভক্তের কাছে কালী মা দয়াময়ী-স্নেহময়ী। মায়ের একাধারে দুই ভাব। মায়ের কোন রূপে পুজো করলে প্রসন্নতালাভ হবে তা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। মা ভক্তবৎসলা। সাধকের চোখে,রাতের গভীর নিস্তব্ধতায় কেউ জেগে নেই শুধু এক নারী কণ্ঠস্বর।

