একাকিত্বেই মানসিক যন্ত্রণা : সমস্যা সমাধানের পথ
বর্তমান সময়ে অনেকের মুখে একাকিত্বের কথাটি শোনা যায়। অনেকে আবার একাকিত্বে ভুগতে ভুগতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বহু মানুষ একা হয়ে পড়েন । মানুষ কোনও না কোনও সময়ে একাকিত্বের যন্ত্রণা উপলব্ধি করেন। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে একাকিত্ব ভালো বলে মনে করা হয়। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার সুযোগ ঘটে। এক্ষেত্রে নিজেকে নিজে চেনা যায়। নিজেকে ভালো করে জানা এবং নিজেকে পর্যালোচনা করার জন্য একাকিত্বের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে । তবে যাঁরা দিনের পর দিন একা নিঃসঙ্গ থাকেন তাঁদের কাছে একাকিত্ব একটা ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা বলে মনে করা হয়। এখনকার সময় সমাজ-সংসারে পিতা-মাতা বৃদ্ধ হলে তাঁদের দেখাশুনার দায়িত্ব সন্তান-সন্ততিরা নিতে চান না। কর্মসূত্রে বা পেশার তাগিদে মা-বাবাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এমনকী বিদেশে গিয়ে কর্মসূত্রে সেখানেই থেকে যান। এই সময়েই পিতা-মাতারা একাকিত্বে ভুগতে থাকেন।
মনরোগ বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, সব মানুষ একাকিত্বে ভোগেন না। মানসিক চাপ না নিতে পেরে এই সমস্যা তৈরি হয়। এই সময় পাশে দাঁড়ানো এবং সান্তনা দেওয়ার মানুষ না থাকায় সমস্যা বাড়ে। সন্তানরা পাশে থাকলে সমস্যা জটিল হয় না। একাকিত্বে মানসিক যন্ত্রণা বাড়তে বাড়তে তা চরম সীমায় পৌঁছে যায়। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের এক্ষেত্রে পরামর্শ হল-একাকী নিঃসঙ্গ জীবনের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী হল ভালো বই পড়া। ভালো গ্রন্থপাঠে মস্তিষ্কের উর্বরতা বাড়তে থাকে। মননশীল চিন্তা শক্তি বৃদ্ধি পায় বলেই একাকীত্ব বোধ হয় না। সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারলে একাকীত্ব অনুভব হয় না। যেমন -ফুল গাছ লাগানো,সবজি চাষ করা সহ নানা সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতে হবে। সময় কোথা থেকে পার হয়ে যাবে তা বুঝতে পারবেন না।একাকিত্ব মানুষের জীবনে অন্যরকম অনুভূতি বা জীবনকে সুন্দর করে তুলতে পারে। প্রাচীন মুনি -ঋষিরা বলেছেন, ঈশ্বরের অস্তিত্ব যে অনুভব করতে পারে সে জীবনে কখনও একাকিত্ব বোধ করে না। সারাদিন চিরকাল ভালো থাকার শুভকামনা।

