puri rath 2Breaking News Others 

সবার অন্তরেই থাকবেন প্রভু জগন্নাথ

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: তিনি জগতের নাথ। এ জগতের শুভ-অশুভ, সুখ-দুঃখ, শান্তি, বিপর্যয়, সৃষ্টি সহ সবকিছুরই উৎসে প্রভু জগন্নাথদেব। সেই বিশ্বাসে অটুট থেকে আমরা এগিয়ে চলি। আর সেই বিশ্বাসেই রথযাত্রায় প্রভু জগন্নাথকে বন্দনার আয়োজন করে থাকি। এবার পুরীর রথযাত্রা নিয়ে সংশয় ছিল। ১৪৪ ধারা জারি হয় স্নানযাত্রা পর্বে। করোনার এই আবহে জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রা এবার রথে চেপে মাসির বাড়ি গুন্ডিচা মন্দিরে যেতে পারবেন না এমন অনিশ্চয়তা ছিল।

সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে প্রাথমিকভাবে বন্ধ হওয়ার মুখে ছিল ঐতিহ্যবাহী পুরীর জগন্নাথের রথযাত্রা। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে শর্তবিধি মেনে কেবলমাত্র পুরীরই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সামাজিক দূরত্ববিধি সহ নজরদারির দায়িত্বে থাকবে রাজ্য সরকার। করোনা উপসর্গ না থাকা সেবায়িতরাই সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে রথ চালাতে পারবেন বলে নির্দেশ।

প্রাচীন ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে সমস্তরকম আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রভু জগন্নাথের পুজো হবে। সামাজিক দূরত্ব সহ সবরকম বিধি মেনে জগন্নাথের রথযাত্রা পালিত হবে এমনটা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। রথযাত্রা পালন করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায়। উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার স্থগিত হয়ে যায় স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা অনুষ্ঠান। প্রভুর রথযাত্রা হবে না, এটা ভাবতেই হতাশ ছিলেন দয়িতাপতিরা।

রীতিমতো ওড়িশার মানুষও ব্যথিত ছিলেন। এমনকী ওই সীমানা ছাড়িয়ে তার প্রভাব পড়েছে গোটা ভারত সহ বিশ্বেই। প্রভু জগন্নাথের রথযাত্রা এখন ওড়িশার উৎসব নয়, গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রভুর অগণিত ভক্তের প্রাণের একটি উৎসব। এবার দেবতাদের রথ হাতিতে টানার প্রসঙ্গও এসেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতি দিয়ে এর আগে রথ টানা কোনও কালেই হয়নি।

অতীতদিনে এখনকার মতো পিচের রাস্তা ছিল না। মাটির বা বালির রাস্তাতেই রথ টানা হত। রথের সময় বৃষ্টি হত। তাই রথের চাকা বালিতে আটকে গেলে হাতি তা ঠেলে রথ সামনে এগিয়ে দিত। সেইজন্যেই হাতি রাখার ব্যবস্থা ছিল। শাস্ত্র মতে বলা হয়েছে, রথের উপর বামন ও শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবকে দর্শন করলে ভক্তের আর পুনর্জন্ম হয় না। করোনার আবহে এবার সেই দুঃখের মাঝেই এল কিছুটা স্বস্তি। তবে সবার অন্তরেই থাকবেন জয় প্রভু জগন্নাথ।

Related posts

Leave a Comment