নির্বাচনী পরিক্রমা- আজকের জেলা নদিয়া
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : বাংলার ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৮ দফা ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট এই বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র সংখ্যা ১ লক্ষ ১ হাজার ৯১৬টি। একুশের এই নির্বাচনে জেলাওয়াড়ি একঝলক ভোট- চিত্র তুলে ধরছি আমরা।
এবারের জেলা- নদিয়া। নির্বাচনী নির্ঘন্ট- ষষ্ঠ দফা (২২ এপ্রিল)। ওই দিনে ভোটগ্রহণ হবে যেসব কেন্দ্রে- করিমপুর, তেহট্ট, পলাশীপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপরা, কৃষ্ণনগর (উত্তর), কৃষ্ণনগর (দক্ষিণ), নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রাণাঘাট (উত্তর-পশ্চিম), রাণাঘাট (দক্ষিণ), রাণাঘাট (উত্তর-পূর্ব), কৃষ্ণগঞ্জ, চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে যে চিত্র ছিল তা একনজর। বিধানসভা কেন্দ্র ও বিজয়ীরা হলেন- করিমপুর- বিমলেন্দু সিংহ রায় (তৃণমূল), তেহট্ট- গৌরীশঙ্কর দত্ত (তৃণমূল), পলাশীপাড়া- তাপস সাহা (তৃণমূল), কালীগঞ্জ- হানসুজ্জামান শেখ (তৃণমূল), নাকাশিপাড়া- কল্লোল খাঁ (তৃণমূল), চাপরা- রুকবানুর রহমান (তৃণমূল), কৃষ্ণনগর (উত্তর)- অবনীমোহন জোয়ারদার (তৃণমূল), কৃষ্ণনগর (দক্ষিণ)- উজ্জ্বল বিশ্বাস (তৃণমূল), নবদ্বীপ- পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা (তৃণমূল), শান্তিপুর- অরিন্দম ভট্টাচার্য (বিজেপি), রাণাঘাট (উত্তর-পশ্চিম)- শঙ্কর সিং (তৃণমূল), রাণাঘাট (দক্ষিণ)- রমা বিশ্বাস (সিপিএম), রাণাঘাট (উত্তর-পূর্ব)- সমীরকুমার পোদ্দার (তৃণমূল), কৃষ্ণগঞ্জ- আশিসকুমার বিশ্বাস (বিজেপি), চাকদহ- রত্না ঘোষ (তৃণমূল), কল্যাণী- রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস (তৃণমূল) এবং হরিণঘাটা- নীলিমা নাগ (তৃণমূল)। উল্লেখ করা যায়, কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক অবনীমোহন জোয়ারদার প্রয়াত হয়েছেন।
জেলা-পরিক্রমা করে স্থানীয় মানুষদের যে দাবি উঠে এসেছে তা হল- কৃষ্ণনগর-করিমপুর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভাগীরথী নদীর ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রভৃতি রয়েছে। আবার করিমপুরে রেল রিজার্ভেশন টিকিট কাউন্টার, রামায়ণ রচয়িতা কবি কৃত্তিবাস ওঝার জন্মস্থানকে (ফুলিয়া) পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রয়াস। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ২০ কিলোমিটার কাঁটাতারের ব্যবস্থা প্রভৃতি রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে- কৃষ্ণনগরে ‘কন্যাশ্রী’ বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণীতে মেডিক্যাল কলেজ ও রাণাঘাট শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি নির্মাণ প্রভৃতি রয়েছে। আবার ইছামতি নদী সংস্কার, নবদ্বীপের ‘যুব আবাস’, দত্তপুলিয়া কমিউনিটি হল নির্মাণ প্রভৃতি কাজগুলি রয়েছে। রাণাঘাটের আনুলিয়া-মাজদিয়া যোগাযোগ ব্যবস্থায় চূর্ণী নদীর ওপর স্থায়ী সেতু রয়েছে। রাণাঘাটে পার্ক। জেলায় উদ্বাস্তু পরিবারের জমির দলিল প্রদান প্রভৃতি রয়েছে। এছাড়া কল্যাণীতে অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল সায়েন্সের বিভিন্ন পরিষেবা ও নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্ক পরিষেবা প্রভৃতি রয়েছে। করিমপুরে মুক্তমঞ্চ, শিশু-উদ্যান নির্মাণ, বেতাই ও শান্তিপুরে স্টেডিয়াম প্রভৃতি বিষয় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নয়নের বেশ কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। ভাঙন রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের আরও প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অনেকেই মনে করেন।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ-খবর নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন মানুষের বিভিন্ন অভিযোগও। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অনেক স্থানীয় মানুষ বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন। দুর্নীতিরও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সেভাবে হয়নি। নারীর নিরাপত্তা, নদী সংস্কার ও দূষণ রোধে সেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। রেলের বিভিন্ন কাজে রাজ্য সহযোগিতা করেনি বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ সামনে এসেছে।
খবরটি পড়ে ভাল লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

