নতুন সংরক্ষণ বিল-প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: নতুন সংরক্ষণ বিল আসতে চলেছে। সূত্রের খবর,এবার রাজ্যের হাতে আসতে চলেছে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার। নতুন বিল কতটা প্রভাব ফেলবে,তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এক্ষেত্রে জানা যায়,রাজ্যভিত্তিক ওবিসি তালিকা তৈরি করার স্বাধীনতা প্রদান করার জন্য গতকাল একটি বিল লোকসভায় পেশ হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই বিলের স্বপক্ষে অনুমোদনও দিয়েছেন। সূত্রের আরও খবর,সোশ্যাল জাস্টিস ও এমপাওয়ারমেন্টের মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার ১২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেছেন।
উল্লেখ করা যায়, চলতি বছরের ৫ মে শীর্ষ আদালত সূত্রে জানানো হয়, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংরক্ষণের লক্ষ্যে রাজ্যের হাতে কোনও অধিকার নেই। ১০২তম সংবিধানের সংশোধনের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলে জানানো হয়। আবার ২০১৮ সালে ১০২তম সংবিধান সংশোধনে বলা হয়- সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে। একটি তালিকা তৈরি করার ক্ষমতা দেওয়া হয় পার্লামেন্টকে। এই বিষয়টি নিয়ে চর্চাও চলে। এরপর ২০১৮ সালের ১০২তম সংবিধান সংশোধন করার প্রয়োজনীয়তা পড়ে।
আরও জানা গিয়েছে,নতুন সংশোধনী আইন পাস হওয়ার পর রাজ্যগুলি একটি গুরুদায়িত্ব পাবে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার পিছিয়ে পড়া জাতিগুলির তালিকা তৈরি করে সংরক্ষণের অধিকার দিতে সক্ষম হবে। উল্লেখ করা যায়, ১৯৯৩ সাল থেকে ওবিসি জাতির তালিকা তৈরি করা হয়। ২০১৮ সালে ১০২তম সংবিধান সংশোধনের পর তা বন্ধ ছিল। নতুন বিল পাস হয়ে গেলে তা আবার চালু হবে। এ বিষয়ে আর্টিকেল ৩৪২এ, ৩৩৮বি ও ৩৬৬-তে বদল আনা হয়েছে। বিল পাস হওয়ার পর রাজ্যগুলি নিজেদের মতো করে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ওবিসি রাখতে পারবে।
উল্লেখ্য,১৯৯১ সালে পিভি নরসিংহ রাও সরকার বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে জেনারেল ক্যাটাগরিকে ১০% সংরক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । পরবর্তীতে ৯ বিচারপতির বেঞ্চ রায় দিয়েছিলেন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ৫০শতাংশের বেশি দেওয়া যাবে না। সেই মতো আইন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে অনেক রাজ্য রয়েছে যেখানে ৫০শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেমন- ছত্তিসগঢ়, তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, বিহার, গুজরাত, কেরল ও রাজস্থান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পিছিয়ে পড়া জাতিদের সংরক্ষণ দেওয়া হলে সরকার তাঁদের কাছে পৌঁছাতে পারবে।

