পিতা-মাতার আচরণ : সন্তানের ব্যক্তিত্বের প্রভাব
পিতা-মাতার ব্যক্তিত্বের ওপর সন্তান বড় হয়,এটা প্রচলিত কথা। যে পিতা-মাতার সম্পর্ক যত সু-মধুর সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ তত সুন্দরভাবে গড়ে উঠে । পরীক্ষামূলকভাবে দেখা গিয়েছে, যে পিতা-মাতা ব্যক্তি হিসেবে যতটা শালীনতার পরিচয় রাখেন,ঠিক ততটাই ব্যক্তিত্ববান হয়ে উঠেন তার সন্তানরা। সেক্ষেত্রে মানসিকতা,চরিত্র ও সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে উঠতে সহায়তা করে। ছোট থেকেই শিশু-কিশোররা অনুকরণ প্রিয় হয়ে উঠে। মাথায় রাখবেন,জীবনের প্রথম শিক্ষক হচ্ছে তার পিতা-মাতা। তার কথা-বার্তা, বাচনভঙ্গি বা কাজ করার ধরণ সব কিছুই সে শিখে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের কাছ থেকে। তাঁদের আচরণ সন্তানদের ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে।
পিতা-মাতা একে অপরের প্রতি যতটা শ্রদ্ধাশীল ও বিনয়ী হন,সেক্ষেত্রে সন্তানরা ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারে। পিতা বা মাতা অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে বা বাচনভঙ্গি অশালীন হলে তা সন্তানদের মধ্যে প্রভাব পড়ে।
এই সব কারণে সন্তান পিতা-মাতা অভিভাবকদের অবাধ্য হয়ে যায় । সামাজিক আচরণেও প্রভাব পড়ে। এমনকী সৌজন্যতা থেকেও দূরে সরে যায়। দামী পোশাক ও বিলাসবহুল জীবন যাপন করলেই যে ভদ্র সভ্য হবে,এমন গ্যারান্টি নেই। উচ্চ্যস্বরে কথা বলা, অভদ্রতা করা থেকে অভিভাবকদের দূরে থাকতে হবে। সন্তান কিন্তু তাই শিখবে। স্বার্থপর হয়ে গড়ে উঠতে দেবেন না। মনে রাখবেন,আপনি নিজে নেশায় আসক্ত থাকলে আশা করতে পারেন না আপনার সন্তান তা থেকে বিরত থাকবে। আপনার সন্তানকে চরিত্রবান করে গড়ে তুলুন। আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি সন্তানের মাঝে বিকশিত হোক তা প্রত্যাশা করবেন।

