রাজস্থান মরুভূমিতে তেল ও গ্যাসের পরে প্রচুর জলের সন্ধান পাওয়া গেল
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ রাজস্থান মরুভূমির বালুকাময় থর মরুভূমিতে তেল ও গ্যাসের পরে জলের অথৈ ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ভূতাত্ত্বিকদের দ্বারা অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বারমের জেলার মাদপুরা বারওয়ালায় জলের একটি ছোট সমুদ্রের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে ৪৮০০ ট্রিলিয়ন লিটার জল মজুত রয়েছে বলে অনুমান। জলের এই ভান্ডার বারমের থেকে জালোর জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। ভূগর্ভস্থ এই জলের লবণাক্ততা কিছুটা বেশি। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে উপসাগরীয় দেশগুলির আদলে এই জলকে পানীয়যোগ্য করে তোলা সম্ভব। ভূতাত্ত্বিকরা অনুমান করেন যে এই জল ১ মিলিয়ন জনসংখ্যার জনবসতিকে বেশ কয়েক বছর ধরে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারবে। কেয়ার্ন এনার্জি দীর্ঘদিন ধরে মরুভূমিতে তেল এবং গ্যাস অনুসন্ধান করছে। এই অনুসন্ধানের সময় জলের সন্ধানও পাওয়া যায়।
রাজস্থানের রাজস্বমন্ত্রী হরিশ চৌধুরী বলেছেন যে কেন্দ্রীয় জলবিদ্যুৎ মন্ত্রকের উচিৎ এই দিকে নজর দেওয়া, যাতে অভাবগ্রস্থরা জল পেতে পারে। ভূতত্ত্ববিদ অনিল পালিওয়ালের মতে পেট্রোকেমিক্যাল ডেটা, ভূমিকম্প সমীক্ষা এবং বিশদ জল-ভুবিশ্লেষণের তদন্তের ভিত্তিতে কেয়ার্ন অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সংস্থা বারমার অববাহিকায় থাম্বলিতে জলের অনুসন্ধান করেছে। এই জলের বিস্তার বারমার জেলার বেতুর নিকটবর্তী মাদপুরা বারওয়ালা অঞ্চলে গুঁড়ামালানি, বেতু, শিব, বারমার ও সানচোর এবং জালোর জেলার কুর্দি পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর গভীরতা ভুপৃষ্ঠের ৩৫০মিটার থেকে ১.৫কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে বলে অনুমান। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সাধারণত পানীয় জলে লবণের পরিমাণ প্রতি লিটারে ১হাজার মিলিগ্রাম অবধি বৈধ, তবে মরুভূমিতে পাওয়া জলের ভান্ডারগুলিতে প্রতি লিটারে সর্বনিম্ন ৫হাজার থেকে ২০হাজার মিলিগ্রাম অবধি লবণ রয়েছে। রাজ্যের জল সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরীয় দেশগুলিতে সমুদ্রের জলের লবণাক্ততা প্রতি লিটারে ৩৫হাজার মিলিগ্রাম বা তারও বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সৌরশক্তির মাধ্যমে ডি-স্যালিনাইজেশনের কাজও করা হয়ে থাকে। সেরকম অনুরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করে এই জলকেও পরিশুদ্ধ করা যেতে পারে।

