শীতকালে বনাঞ্চলের আগুন রুখতে পদক্ষেপ রাজ্যের
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: শীতের সময় জঙ্গলের আগুন প্রতিরোধে প্রস্তুতি শুরু বনদপ্তরের। এই সময় পাতা ঝরার মরশুম শুরু হয় ।
সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরে সমগ্র বিশ্বে বনাঞ্চলে আগুন লাগার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আমাজন -অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, আফ্রিকা সহ ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল। এমন পরিস্থিতি যাতে ডুয়ার্স বা জঙ্গলমহলে না হয়,সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে রাজ্য বনদপ্তর। সূত্রের আরও খবর,এই সব বনাঞ্চলের কোন কোন অংশে অতীতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আবার যে সব স্থানে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে সেইসব জায়গাকে চিহ্নিত করার কাজ হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যে বনাঞ্চলের বিভিন্ন সার্কেল, রেঞ্জ, বিট ও সংশ্লিষ্ট জায়গার উপগ্রহ চিত্র তৈরি করে অরণ্য ভবনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তা প্রতিরোধে যা যা পরিকাঠামো দরকার, সেই কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা তেমন নেই। তবুও প্রস্তুত থাকতে প্রয়াস নিয়েছে বনদপ্তর।
এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্ন জায়গায় এলাকা ভিত্তিতে ‘অগ্নি পর্যবেক্ষক’ বা ফায়ার ওয়াচার নিয়োগ করা হয়েছে। আবার ঘন জঙ্গলে আগুন রোখার জন্য কিছু কৃত্রিম পরিকাঠামো তৈরি করে থাকে বনদপ্তর। সেই কাজেরও তৎপরতা শুরু। অন্যদিকে গ্রাম সংলগ্ন বনাঞ্চলে আগুন লাগলে গ্রামবাসীরা কী ভূমিকা নেবেন, সে বিষয়ে কর্মশালা করা হবে শীঘ্রই। এছাড়াও পর্যটকরা জঙ্গলে যাওয়ার আগে তাঁদেরও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছাড়াও গাইডদের এই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন বনকর্মীরা। আগুন প্রতিরোধে দমকলের সঙ্গে বনকর্মীদেরও বিভিন্ন কৌশল শেখানো হবে বলে জানা গিয়েছে। জঙ্গলের মধ্যে যাতে দমকলের গাড়ি অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে, তার জন্য রাস্তাও তৈরি করা হচ্ছে বলে খবর। বনদপ্তর সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের সঙ্গে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হয় রাজ্যের। শীতকালে জঙ্গলের আগুন প্রতিরোধ করার জন্য কেন্দ্র ‘ফরেস্ট ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ বা এফপিএম খাতে প্রতি বছর রাজ্যকে কিছু টাকা দিয়ে থাকে। সূত্রের খবর,এবছরও ১ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য এক্ষেত্রে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। শীতকালে বনাঞ্চলের আগুন রুখতে পদক্ষেপ শুরু করে করেছে রাজ্য।

