rakhi and bandhanBreaking News Entertainment Others 

জেনে নিন রক্ষাবন্ধন উৎসবের রীতি-রেওয়াজ

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথি। উৎযাপিত হয় রাখি উৎসব। রক্ষাবন্ধনও বলে থাকেন অনেকে। ভাই-বোনের সৌহার্দ্যের পরশ থাকে এই উৎসবে। পন্ডিত ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার উপযুক্ত সময় হল- অপরাহ্ন বা বিকেল বেলায়। সন্ধ্যাতেও রক্ষাবন্ধন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এ বছর এই উৎসব পড়েছে ২২ আগস্ট রবিবার। অন্যদিকে পঞ্জিকার মত অনুযায়ী বলা হয়েছে, সকাল ৬টা ১৯ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটের মধ্যে রক্ষাবন্ধনের অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে হবে ।

রক্ষাবন্ধনের রীতি-রেওয়াজ বলতে বলা হয়েছে,ভাই ও বোন এই দিনটিতে নতুন বস্ত্র পরিধান করবে। এক্ষেত্রে বোনেরা প্রথমে ভাইয়ের কপালে সিঁদুর ও চন্দনের তিলক দিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করবে। এরপর ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার পর মিষ্টিমুখ করাবে। পাশাপাশি এই উৎসবকে ঘিরে ভাই ও বোনের মধ্যে উপহার বিনিময়ের প্রথাও চালু রয়েছে।

রক্ষাবন্ধনের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে সে বিষয়েও বিশদ বর্ণনা করা হয়েছে। কথিত রয়েছে, আঘাত লেগে কৃষ্ণের হাত কেটে যাওয়ার পর দ্রৌপদী নিজের বস্ত্রাঞ্চল ছিঁড়ে ক্ষতস্থান বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর ওই বস্ত্রখণ্ডকে কৃষ্ণ রক্ষাসূত্র-র মর্যাদা দিয়েছিলেন। প্রচলিত রয়েছে এখান থেকেই শুরু হয় রক্ষাবন্ধন উৎসবের। এ বিষয়ে আরও জানা যায়,রাখির সঙ্গে সং যুক্ত রয়েছে দেবী লক্ষ্মীর স্বামী উদ্ধারের কথা ও কাহিনী।

আবার ইতিহাসেও বর্ণনা পাওয়া যায় রক্ষাবন্ধন উৎসবের বিষয়টি। গুজরাটের শাসক বাহাদুর শাহ মেবার আক্রমণ করলে রানি কর্ণাবতী সাহায্য চেয়ে পাঠান মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের কাছে। এর সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল রাখি।

শ্রাবণ পূর্ণিমার একটি অন্য মাহাত্ম্যও রয়েছে। হিন্দু ধর্মে পূর্ণিমা তিথির একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রক্ষাবন্ধন উৎসব ছাড়াও রয়েছে ভিন্ন একটি বিষয়। এক্ষেত্রে প্রচলিত রয়েছে, শিব একসময় পার্বতীর কাছে বর্ণনা করেছিলেন জীবের অমরতালাভের বিষয়টি। পাশাপাশি শ্রাবণ পূর্ণিমাতেই বৈষ্ণবরা পালন করে থাকেন রাধা-কৃষ্ণের ঝুলন উৎসব। প্রতিমা দোলনায় বসিয়ে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

ভারতীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সময় একটি রীতি পালিত হয়। এই তিথি নারিকেল পূর্ণিমা নামেওপরিচিত। এই তিথিতে ওই সম্প্রদায়ের মানুষ জলদেবতা বরুণের পুজো দিয়ে থাকেন সমুদ্রে নারকেল ও ফুল নিক্ষেপ করে। এক্ষেত্রে প্রচলিত রয়েছে,পুত্রসন্তান ও পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। আবার মাছ ধরার সময় সাগরযাত্রা হয়ে ওঠে নিরাপদ।

Related posts

Leave a Comment