রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি ও তার প্রভাব
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : রিজার্ভ ব্যাঙ্ক চলতি আর্থিক বছরের (২০২১-২২) দ্বিতীয় ঋণনীতি ঘোষণা করেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের কতটা আগ্রহ তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এই ঋণনীতি কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে কমবেশি আগ্রহ রয়েছে।
রেপো রেট অপরিবর্তিত- এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রেপো রেট হল বিশেষ সিগন্যাল। যা বাড়িয়ে কমিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে নিজস্ব সুদের হার বাড়ানো-কমানোর বার্তা দিয়ে থাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসের পর থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই রেপো রেট টানা অপরিবর্তিত রেখে গিয়েছে। আবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক চলতি আর্থিক বছরে এপ্রিল-জুন ও জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির বৃদ্ধির অনুমান তাদের গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত ২৬.২ শতাংশ ও ৮.৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮.৫ শতাংশ ও ৭.৯ শতাংশ করেছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, দেশের অর্থনীতি দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধির পথে না ফেরা পর্যন্ত রেপো রেট বাড়ানো হবে না। অক্টোবরের আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করবে না বলে ধারণা। গৃহঋণে সুদের হার আপাতত বাড়ছে না। উল্লেখ করা যায়, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০১৮ সালের আগস্ট মাস থেকে রেপো রেট ৬.৫০ শতাংশ থেকে ক্রমশ কমিয়ে গত বছর মে মাসে তা ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এরফলে গৃহঋণে সুদের হার এখন তলানিতে।
এক্ষেত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও হাউজিং ফিনান্স সংস্থাগুলি বর্তমানে ৭ শতাংশের কম সুদে হোমলোন দিচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি ঘোষণার পর গৃহঋণে সুদের হার আগামী বেশ কয়েক মাস, অন্তত যতদিন না কর্পোরেট সংস্থাগুলি থেকে শিল্পলগ্নি ও ব্যাঙ্ক-ঋণের চাহিদা বাড়ছে, ৭ শতাংশের নিচেই থাকবে। বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার এটাই আদর্শ সময় বলে জানানো হয়। অন্যদিকে আরও বলা হয়, গত ২ বছরে চাহিদার অভাবে কলকাতায় আবাসনের দাম বাড়েনি। আবার যাঁরা ৩-৪ বছর আগে গৃহঋণ নিয়েছেন তাঁরা কত হারে সুদ দিয়ে চলেছেন সেটা যাচাই করে কম সুদের নিজেদের বকেয়া লোন স্থানান্তরিত করার কথা এখন ভাবতে পারবেন। এ বিষয়ে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে ব্যাঙ্কগুলিকে রেপো রেট-ভিত্তিক সুদের হারে নতুন গৃহঋণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় ও পুরনো গৃহঋণ গ্রাহকরা চাইলে যাতে সামান্য ফি বাবদ নতুন রেপো রেট-ভিত্তিক সুদের হার ব্যবস্থায় নিজেদের বকেয়া লোন স্থানান্তরিত করতে পারেন সেই সুযোগ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আরবিআই।
এক্ষেত্রে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের আগে ব্যাঙ্কগুলি তাদের এক বছর মেয়াদি এমসিএলআর বা মার্জিনাল কস্ট বেসড লেন্ডিং রেট-ভিত্তিক সুদের হারে গৃহঋণ দিত। এমসিএলআর-ভিত্তিক গৃহঋণে ব্যাঙ্কগুলি বছরে একবার সুদের হার পরিবর্তন করত, রেপো রেট-ভিত্তিক সুদ ব্যবস্থায় সেখানে প্রতি ত্রৈমাসিকে একবার গৃহঋণে সুদের হার পরিবর্তন করা হয়। এ বিষয়ে নিজ ব্যাঙ্কে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে। কী হারে গৃহঋণে সুদ দিতে হচ্ছে, তা জানা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ৮ শতাংশ থেকে ৮.৫০ শতাংশ বা তার বেশি হয় তবে অন্য ব্যাঙ্কে ৭ শতাংশ বা তার কম সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে সেখানে ওই বকেয়া লোন স্থানান্তর করার কথা ভাবা যেতে পারে।
এক্ষেত্রে জানা যায়, অন্য ব্যাঙ্কে লোন স্থানান্তর করার জন্য বকেয়া লোনের ২ শতাংশ ‘ফোরক্লোজার ফি’ দিতে হয়। এক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে সুদ বাবদ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি পুরনো ব্যাঙ্কে অর্ধেক লোন শোধ হয়ে থাকলে তবে এই লোন স্থানান্তরে বিশেষ লাভ হবে না। গৃহঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদকালের প্রথম অর্ধে ইএমআই-এর বেশির ভাগটা যায় সুদ পরিশোধ করার জন্য। দ্বিতীয়ার্ধে সুদ কম ও আসল বেশি পরিশোধ করার নিয়ম। গৃহঋণের অর্ধেক মেয়াদ শেষ হলে বকেয়া লোন স্থানান্তরে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়।
স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের কথা ভাবতে পারেন আমানতকারীরা। ব্যাঙ্ক আমানতেও সুদের হার কম। এই অবস্থায় সমস্যায় প্রবীণ নাগরিকরা। অবসর জীবনে নিশ্চিত আয়ের সুযোগ নিতে ব্যাঙ্ক আমানতে সুদ আয়ের উপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্ক আমানতে সুদের হার এখনই বাড়ছে না। জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই পোস্ট অফিসের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে আমানত বাড়িয়ে রাখতে পারেন। এখনও স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে ব্যাঙ্ক আমানতের চেয়ে বেশি সুদ মিলছে।
কেন্দ্রীয় সরকার জুলাই মাস থেকে স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সুদের হার কমাবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বলা যেতে পারে, গত এপ্রিল মাসের গোড়ায় স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সুদ কমানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেও তা প্রত্যাহার করেছিল অর্থমন্ত্রক। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে দীর্ঘমেয়াদি বা ১০ বছর মেয়াদ পর্যন্ত সরকারি ঋণপত্রে সুদের হার ৬ শতাংশ বা তার কমে বেঁধে রাখতে প্রত্যয়ী রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, এটা বলাই যায়। স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে ওই ত্রৈমাসিকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে যথেষ্ট।
তথ্যসূত্র : এই সময় (ক্রমশঃ)

