দক্ষিণ মেরুর হিমবাহ গলার তীব্রতা বেড়েছে বহুগুণ, উদ্বেগে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : দ্রুত গলতে শুরু করেছে দক্ষিণ মেরুর হিমবাহ। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, দক্ষিণ মেরুতে গত কয়েক বছর ধরে অতি মাত্রায় গলতে শুরু করেছে বরফ। অতীতে যতটা বরফ গলতো সেই তুলনায় গত কয়েক বছরে বরফ গলার তীব্রতা বেড়ে গিয়েছে বহুগুণ। তবে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বেড়ে যাওয়া নিয়ে যেমনটা অনুমান করা হয়েছিল, তা বাড়েনি।
এই পরিস্থিতিতে অনেকটাই আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে দক্ষিণ মেরুর বরফ গলার হার বেড়ে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছে আশ্চর্যজনক তথ্যও সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ-গবেষকদের বক্তব্য, সাগরের তলদেশের গরম জলের স্রোত এই হিমবাহের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার জন্যই বেড়ে গিয়েছে বরফ গলার তীব্রতা।
আবার ‘ডুমসডে হিমবাহ’ নামে পরিচিত প্রকাণ্ড থাওয়েট হিমবাহ অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা এই ধরনের দাবি করেছেন। দ্য ক্রিয়োসফেরে জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সাগরের তলদেশের গভীরতা পূর্বে যতটা ভাবা হয়েছে, যা তার চেয়ে অনেকটাই বেশি। অনেক বেশি গভীর হওয়ার কারণে সমুদ্রের গরম জলের স্রোত হিমবাহের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এই গরম জল প্রবাহিত হওয়ায় গলতে শুরু করছে হিমবাহ। এক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ মেরুর হিমবাহ গলার জন্য একমাত্র গরম জলের স্রোতই কারণ নয়। এক্ষেত্রে সারা বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞ-গবেষকরা এ প্রসঙ্গে আরও জানান, গত ৩ দশকে থাওয়েট হিমবাহ যে পরিমাণ গলেছে যার আয়তন পুরো গ্রেট ব্রিটেন বা আমেরিকার ফ্লোরিডার সমান। বিশেষজ্ঞ-গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, থাওয়েট হিমবাহের বরফ সম্পূর্ণ গলে গেলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়বে। এর জেরে পৃথিবীতে বিপর্যয় নামার ইঙ্গিতও থাকছে।

