ফার্মাসিউটিক্যাল নিয়ে পড়াশুনা ও কাজের সুযোগ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ফার্মাসিউটিক্যাল নিয়ে পড়ে চাকরির বিশেষ সুযোগ আসতে পারে। তবে প্রথমেই জেনে নিতে হবে ফার্মাসিউটিক্যাল আসলে কি। এক্ষেত্রে কি রকম যোগ্যতা লাগে তও জেনে নেওয়া দরকার। আবার কোন ধরণের কোর্স করা যায়, কোথায় পড়া যাবে বা এই পেসার চাহিদা কেমন তা জেনে নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের উন্নতির হাত ধরে বর্তমানে দেশে ওষুধ উৎপাদন এবং বিপণনের মাত্রা বেড়েছে পূর্বের তুলনায়। এখন দেশি-বিদেশি অনেক কোম্পানি ভারতীয় বাজারে ভেষজ সামগ্রী তৈরির ক্ষেত্র হিসাবে বিবেচনা করছে। এক্ষেত্রে কাজের একটা বিরাট জায়গা তৈরি হয়েছে।
মানুষের স্বাস্থ্য ও রোগ নিরাময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে এই শিল্প জুড়ে-জড়িয়ে রয়েছে। পেশাগত দিক থেকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল কাজ ফার্মাসিউটিক্যাল পেশাদারদের। এক্ষেত্রে কাজের জগতে ফার্মাকোলজি বা ওষুধ-সংক্রান্ত বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করা যেতে পারে।
পাশাপাশি ওষুধ উৎপাদন ও প্রয়োগ সংক্রান্ত কাজ এবং ওষুধ নিয়ে গবেষণামূলক কাজও করা যায়। এক্ষেত্রে যোগ্যতা-বিজ্ঞান শাখায়, মূলত ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অঙ্ক এবং বায়োলজি নিয়ে পড়াশুনা করা থাকলে ফার্মাসিউটিক্যাল নিয়ে পড়াশুনা করা যেতে পারে। পরে স্নাতকোত্তর স্তর পেরিয়ে এই যোগ্যতায় পিএইচডি করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিগ্রির বাইরেও চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ভেষজ বিষয় নিয়ে আগ্রহ থাকাটা জরুরি। এক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, রোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে ওষুধের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সে জন্য দায়িত্বশীলতা ও ধৈর্যশক্তি নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
অন্যদিকে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ পেশায় যুক্ত হতে চাইলে সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কমিউনিকেশনের সঙ্গে ব্যবসায়িক দক্ষতা থাকা দরকার। এই সংক্রান্ত বিষয়ে ফার্মাসি নিয়ে ২ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স ডিফার্মা রয়েছে। গ্র্যাজুেয়শন স্তরে বিফার্মা এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্তরে ২ বছরের এমফার্মা।
এক্ষেত্রে গবেষণার স্তরে যেতে আগ্রহী হলে পিএইচডিও করা যায়। উচ্চমাধ্যমিকের পর ৪ বছরের বিফার্মা নিয়ে পড়াশুনা করে স্নাতকোত্তর স্তরে ফার্মাসিউটিক্যাল নিয়ে স্পেশ্যালাইজ করাও যায়। আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই বিষয় নিয়ে সার্টিফিকেট কোর্সও রয়েছে।
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ বছরের বিফার্মা, ২ বছরের এমফার্মা এবং এই বিষয় নিয়ে পিএইচডিও করা যেতে পারে। আবার সরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু জেলায় ফার্মাসি ইনস্টিটিউটগুলির পলিটেকনিকেও ফার্মাসি নিয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করা যেতে পারে। এছাড়াও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসিটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এ মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি, ন্যাচারাল প্রোডাক্টস এবং ফার্মাকোইনফরম্যাটিক্স নিয়ে ২ বছরের পিজি কোর্স করা যেতে পারে।
পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক কলেজে বা প্রতিষ্ঠানে এই বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করা যায়। ভিন রাজ্যেও ইউনিভার্সিটি কলেজ অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স, অন্ধ্রপ্রদেশ, বোম্বে কলেজ অব ফার্মাসি ও মহারাষ্ট্র-এ এই ধরণের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে কাজের সুযোগ- একজন ফার্মাসি প্রফেশনালকে মেডিসিন, অয়েন্টমেন্ট, পাউডার, পিল, ট্যাবলেট, ইঞ্জেকশন তৈরি, মিশ্রণ বা প্রয়োগ অথবা উন্নতকরণের কাজ করতে হয়।
আবার স্টেট ফার্মাসি কাউন্সিলের অনুমোদন থাকলে নিজের ফার্মাসি বা ফার্মাসি স্টক অ্যান্ড ডেলিভারি ব্যবসা ও দোকান করা যেতে পারে। এছাড়া মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবেও কাজের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা বাড়লে বড় হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিংহোমগুলির সঙ্গে ভালো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলে বড় ফার্মাসিকিউটিক্যাল বা ড্রাগস কোম্পানিগুলিতে বিভিন্ন পদে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
ভারতে এই পেশার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। জনবহুল দেশ হওয়ায় হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ক্লিনিক, মেডিসিন শপ প্রভৃতির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে বৃহত্তর কাজের ক্ষেত্র তৈরি রয়েছে।

