সুব্রত-স্মরণ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বিধানসভায় সুব্রত-স্মরণ। তাঁকে ঘিরে কত কথা। শাসক তৃণমূল বা বিরোধী বিজেপি পক্ষের কাছেও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের চলে যাওয়াটা বিষাদের। বিরাট ক্ষতি বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর সহকর্মীরা মন্তব্য করেছেন, আকস্মিক এই ঘটনাটা মেনে নিতে পারছি না। সহকর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই তাঁর চেয়ে অনেক নবীন। সপ্তদশ বিধানসভায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই ছিলেন সবচেয়ে প্রবীণতম বিধায়ক ৷
তাঁকে প্রোটেম স্পিকার হিসাবে মনোনীত করা হয় । প্রোটেম স্পিকার হিসাবে বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করাতেও দেখা গিয়েছে। বিধানসভা অধিবেশন কক্ষের সেই দিনের কথা অনেকেই তুলে ধরেছেন স্মৃতি চারণায়। সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বিধানসভা অধিবেশন কক্ষে শোক প্রস্তাব পাঠ করা হল। সহকর্মীদের স্মৃতিকথায় সুব্রত-র বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। সুব্রত প্রসঙ্গ নিয়ে বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে গেলেন।
তারই একঝলক তুলে ধরার চেষ্টা হল। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু ঘটনা রয়েছে, যা অনেকের কাছেই অজানা। স্বল্পভাষী মানুষটি অতি প্রিয় ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছেও । এখনকার নব প্রজন্মের কাছে তাঁর সবটা জানা নেই। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিপদক্ষেপে বা ছাত্র আন্দোলনে সুব্রত নামটি ব্যাপকভাবে জড়িয়ে ছিল। তাঁকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। তবু তিনি স্ব-মহিমায় থেকেছেন হাসি মুখে।
বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে শোক প্রস্তাব চলাকালীন পক্ষে-বিপক্ষে থাকা অনেকেই “রাজনৈতিক নেতা” সুব্রত-র নানা দিক আলোকপাত করেছেন। তাঁর সিট ফাঁকা ভাবা যায় না,এমন মন্তব্যও করা হয়েছে। যা থেকে বোঝা যায় তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। আরও শোনা গিয়েছে, “সুব্রতদা শুধু রাজনীতির গুরু ছিলেন না। বাড়ির বড়দা ছিলেন”। কারও মুখে শোনা যায়, “সংগ্রামী নেতা না থাকলে সংগ্রামী নেত্রী তৈরি হয় না। সুব্রতদা সে সময় স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার পর বহু নকশালের জেল মুক্তি ঘটিয়েছেন”।
স্মৃতি চারণায় অনেকে বলেছেন, “সুব্রত দা-কে দেখে আমার হিরো মনে হত। আমি উত্তমকুমারকে দেখিনি ৷ সুব্রত দা-কে আমার উত্তমকুমার মনে হত”…। অনেকের অকপট মন্তব্য,”আজও বিশ্বাস হচ্ছে না, সুব্রত দা বিধানসভায় নেই “…। সফল মেয়রও ছিলেন তিনি। অনেক দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন। রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের কঠিন দায়িত্বও পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে।
অধিবেশন কক্ষে বলতে শোনা গিয়েছে,”৮০ ভাগ জুড়ে আমার ভিতর সুব্রতদা রয়েছে। বাংলার রাজনীতিতে সুব্রত দা-কে বাদ দিয়ে কোনও রিসার্চ আলোচনা বা ইতিহাস কোনও কিছুই লেখা যাবে না”…..। আরও শোনা গিয়েছে, “রাজনীতির ময়দানে কাজ করতে করতে উঁনি আমার পরিবারের লোক হয়ে গিয়েছিলেন। রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রী হয়েও উত্তরবঙ্গে অনুন্নয়নের প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র পরিষদের আন্দোলনে সম্মতি দিয়েছিলেন”…..।
মনের মধ্যে দ্বিধা না রেখে শোনা গিয়েছে, “ইন্দিরা গান্ধির সভায় আমি তাঁকে প্রথম দেখি। আমাদের বাড়িতে বহুবার এসেছেন। আমরা পরিবারের মানুষকে হারালাম। রাজনৈতিক অংশের বাইরেও সম্পর্ক ছিল। কোনও দিন তার হেরফের হয়নি ৷ আমাকে সন্তান স্নেহে দেখতেন। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মার্গ দর্শন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। যতদিন রাজনীতি থাকবে এই বাংলায় সুব্রত দা প্রাসঙ্গিক থাকবেন। আমার শেষ স্মৃতি আমাকে শপথ বাক্য পাঠ করানো”……। এমনই কত কথাই শোনা যায় বিধানসভায় সুব্রত-স্মরণে।…
বাংলার রাজনীতিতে একটা অধ্যায় রচনা করে গেলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।
তা আজীবন মনে রাখবেন বঙ্গবাসী…।

