তালিবানের আফগানিস্তান-আফগানিস্তানের তালিবান
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: দুই দশক পর আফগানিস্তানে ফের তালিবান শাসন। ঝড়ের গতিতে শহর ও জেলা দখল করেছে তালিবান। সূত্রের খবর,দীর্ঘ ২০ বছর আফগান সেনাকে তৈরি করার ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে আমেরিকা। রীতিমতো আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সাজানো হয় সেনাবাহিনীকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অন্যদিকে ভারতের পাঠানো এম আই-২৪ অ্যাটাক হেলিকপ্টার দখল করে নিয়েছে তালিবান,এমনও খবর রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান দখল করার নেপথ্যে তালিবানের শুধুমাত্র ধার্মিক কারণ রয়েছে এমনটা নয়। পিছনে জোরালো ব্যবসায়িক কারণও রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
এ প্রসঙ্গে বিশ্লেষকদের বক্তব্য,আফগানিস্তান বিশ্বের আফিম উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশেষ পরিচিত। সূত্রের খবর অনুযায়ী,তালিবানরা কয়েকটি স্থানে আফিম চাষও শুরু করে। আবার কয়েকটি দেশের বহু ব্যবসায়ীদের হয়েও কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে নানা পথ ধরেই বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয় বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন,২০১৬ সালের একটি তালিকায় বিশ্বের পঞ্চম ধনী জঙ্গিগোষ্ঠী হিসেবে ওঠে আসে তালিবান। একসময় একটি পত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশ্যে এসেছিল। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে যায় এই জঙ্গিগোষ্ঠী। সেই তালিকা অনুযায়ী লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লা শীর্ষে অবস্থান করে। তৃতীয় হামাস, চতুর্থ আল কায়দা ও পঞ্চম স্থানে ইসলামিক স্টেট।
এক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের আরও বক্তব্য,২০১৮ সালে তালিবানের আনুমানিক সম্পদ দেখানো হয়েছে ৮০ কোটি ডলার। আবার মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী জানানো হয়েছে,২০২০ সালে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ কোটি ডলার । আবার তালিবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ড্রাগ তৈরির কারখানা রয়েছে বলেও অভিযোগ। এর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চক্র রয়েছে এবং এক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ আসে বলেও খবর । লাগাতার মার্কিন বিমান হামলাতেও অটুট রয়েছে সে সব। বন্ধ হয়নি কারখানাগুলো। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশেই রয়েছে তালিবানের ব্যবসায়ী শাখাও।
অন্যদিকে আরও অভিযোগ সামনে এসেছে,তালিবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারীদের নিয়মিত করও দিতে হয়। কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী ও পশুপালকরাও এক্ষেত্রে রেহাই পান না। বছরে আনুমানিক ১৮০০ কোটি টাকা বিদেশি অনুদান পেয়ে থাকে তালিবানরা । অর্থ সাহায্যকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব ও কাতার প্রভৃতি দেশ।
পাকিস্তান থেকে আর্থিক সাহায্য আসে বলেও অভিযোগ প্রকাশ্যে। ধর্মের নামে দেশ চালানোর বিষয়টিও জোরালো। তবে এক্ষেত্রে আসল লক্ষ্য-আফগানিস্তানের সম্পদ ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া। আফগানিস্তানে আফিম চাষ বিরাট ভূমিকা রাখে এটা বলাই যায়।

