বাঙালির হৃদয়ে থাকবে “দুর্গা”চরিত্রটি
“পথের পাঁচালী” নামটি শুনলেই গ্রামীণ একটি ছবি আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে। তখন “সিনেমা” সিনেমা হয়নি। গ্রাম্য মানুষ “বায়োস্কোপ” বলতো। বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা-কাহিনী “পথের পাঁচালী” । এই উপন্যাসে “প্রকৃতি প্রেমিক” বিভূতি প্রকৃতির নির্যাস তুলে ধরেছেন। এই লেখাকে বিশ্ব মাঝে তুলে ধরেছেন বিশ্বখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়। ১৯৫৫ সালে এই ছবি মুক্তি পায়। প্রথম চলচ্চিত্রে “অস্কার”সম্মান প্রাপ্তি ঘটেছিল এই ছবির হাত ধরেই। উমা দাশগুপ্তের প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গেই ইতি হল “দুর্গার পাঁচালী’-র। কিশোরী বয়সের এই চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন উমা।
সারা জীবন ধরে একটি মাত্র ছবি করেই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন “পথের পাঁচালী”-র দুর্গা। অফার পেলেও আর কোনও ছবিতে অভিনয় করেননি উমা দেবী। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা করেছেন। কালজয়ী ছবির ফ্রেমবন্দি চৌদ্দ বছর বয়সী উমা। “পথের পাঁচালী”-র দৃশ্যে দুর্গার মৃত্যুর দৃশ্য ছিল সংলাপহীন। আর উমা দাশগুপ্তের মৃত্যুতে সমাপ্ত হল এক অধ্যায়ের। বৃষ্টিভেজা দুর্গার মুখ,অপুকে সঙ্গে নিয়ে রেলগাড়ি দেখতে যাওয়া,অপুকে মুখ ভেংচানো সেই সব ছবিগুলির কথা কার না জানা। আজও বাঙালির হৃদয় জুড়ে দুর্গা চরিত্রটি। রেল গাড়ির শেষ সফরে দুর্গা। আপামর বাঙালির হৃদয় আসনে থাকবে দুর্গা চরিত্রটি।
(ছবিঃ সংগৃহীত)

