মাহেশের রথযাত্রার অতীত ঐতিহ্য
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পা রেখেছিলেন। এরপরই মাহেশের নাম হয়ে যায় নবনীলাচল। এই নামকরণ তাঁরই করা। স্থানীয় সূত্রে খবর, বর্তমান মন্দিরটি তৈরি করে দিয়েছিলেন কলকাতার পাথুরিঘাটার নিবাসী নয়নচাঁদ মল্লিক। ১৭৫৫ সাল নাগাদ এটি গড়ে উঠেছিল। ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে ঐতিহ্য বহন করে আসছে রথযাত্রা।
জানা যায়, তাঁর আমলেই এই রথটি তৈরি করে দিয়েছিলেন এক মোদক। আরও জানা যায়, ১৭৫৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হুগলি জেলার দেওয়ান কৃষ্ণরাম বসু পাঁচ চূড়া বিশিষ্ট কাঠের রথ তৈরি করে দিয়েছিলেন। ওই কৃষ্ণরাম বসুরই নাতি বলরাম বসু পরবর্তী সময়ে শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্য হয়েছিলেন। আবার কৃষ্ণরাম বসুর রথ জীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তাঁদেরই বংশধর গুরুপ্রসাদ বসু ১৭৯৮ সালে নয় চূড়া যুক্ত নতুন রথ তৈরি করে দিয়েছিলেন।
এরপর ১৮৮৪ সালে একটি ভয়াবহ অগ্নিকান্ড হয়। রথটি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। ওই বসু পরিবারেরই কৃষচন্দ্র বসু লোহার রথটি মার্টিন অ্যান্ড বার্ন কোম্পানিকে দিয়ে নির্মাণ করিয়েছিলেন। ওই রথ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ২০ লক্ষ টাকার মতো। মাহেশের সুপ্রাচীন রথযাত্রা করোনার কারণে বন্ধ হচ্ছে। রথ চালানো হবে না। ওই মন্দিরের প্রধান সেবায়িত সৌমেন অধিকারী জানিয়েছেন, এই প্রথম মাহেশের বন্ধ হল।
মন্দিরের অভ্যন্তরে ধ্যানঘরে মাসির বাড়ি তৈরি করে প্রভু জগন্নাথকে স্থানান্তরিত করা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উল্টো রথ পর্যন্ত জগন্নাথ সহ সকল বিগ্রহ সেখানে থাকবে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস মাহেশের জগন্নাথ দর্শন করেছেন অনেকবারই। মন্দির চত্বরে ভাবসমাধি ও কীর্তনে মাতোয়ারাও হয়েছিলেন। আবার মা সারদাদেবী মহিলা ভক্তদের নিয়েও মাহেশের জগন্নাথ দর্শন করেছিলেন।
অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, গঙ্গার পশ্চিমকূলে মাহেশে এসে তপস্যায় নিয়োজিত ছিলেন ধ্রুবানান্দ ব্রহ্মচারী। কথিত রয়েছে, প্রবল ঝড়-ঝঞ্ঝার এক রাতে গঙ্গায় একটি নৌকা ভাসতে দেখেছিলেন তিনি। ওইসময় গঙ্গার প্রবল স্রোত থাকা সত্বেও সমস্ত বিপদ উপেক্ষা করে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন। জানা যায়, ওই নিমকাঠ থেকেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রূপ পায়। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৩ বিগ্রহ। বর্তমানে ওই ঘাট লক্ষ্মীঘাট নামে পরিচিত।ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারীর মনোস্কামনাও পূর্ণ করেছিলেন শ্রী শ্রী জগন্নাথ।

