PottersEducation 

মালদায় মৃৎশিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণ-পরিকল্পনা

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: মালদা জেলার গাজোলের রানীগঞ্জ অঞ্চলের শিমুলঝুড়ি গ্রামে বহু পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে রুটি-রুজির ব্যবস্থাও হয়। এক্ষেত্রে হাতে তৈরি মাটির বিভিন্ন সামগ্রীর গুণগত মান ও সৌন্দার্যায়ন বৃদ্ধি করার জন্য সরকারি ভাবে মৃৎশিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সরকারি প্রয়াসে মৃৎশিল্পীদের আধুনিক ভাটা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। শিল্পীদের নাম নথিভুক্তকরণ সহ যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। এই এলাকায় বেশ কয়েকটি আধুনিক ভাটা তৈরির প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি ভাটা তৈরি হলেও এখনও কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে জানা যায়।

এই মুহূর্তে অস্থায়ী ভাটায় বিভিন্ন মাটির সামগ্রী তৈরি করে চলেছেন গ্রাম্য শিল্পীরা। আধুনিক ভাটা তৈরি না হওয়ায় ভালো মানের কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। অতি দ্রুত আধুনিক ভাটা তৈরির দাবিও করেছেন এই পেশায় যুক্ত মৃৎশিল্পীরা।

মালদা জেলার শিমুলঝুড়ি গ্রামের প্রায় একশোর বেশি পরিবার মৃৎশিল্প কাজের সঙ্গে জুড়ে-জড়িয়ে রয়েছেন। ওই গ্রামের প্রায় প্রতি পরিবারে মাটির টব, হাড়ি,কলসি সহ ঘর সামগ্রী সাজানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি হয়ে থাকে। উল্লেখ করা যায়,এই গ্রামের শিল্পীদের হাতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এবং রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরে পৌঁছে যায়। এই সব শিল্পীদের হাতের কাজের সুনামও রয়েছে ভিন রাজ্যে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এই গ্রামের মাটির জিনিসপত্র বাংলার বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যায়। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে পৌঁছায়। গ্রামের শিল্পীদের হাতে তৈরি সামগ্রীর কদর রয়েছে ভিন রাজ্যেও।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সব শিল্পীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। মালদা জেলা শিল্প কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ওই গ্রামের শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আধুনিক বিদ্যুৎ চালিত ভাটা তৈরি হলে গ্রামের শিল্পীদের আয়ের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে স্থানীয় শিল্পীদের অভিমত। (ছবি: সংগৃহীত)

Related posts

Leave a Comment