পুরুলিয়ার জনসভায় বিজেপিকে কটাক্ষ তৃণমূল নেত্রীর
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: “বিনা পয়সায় চাল পাব, আর ৯০০ টাকার গ্যাসে ফোটাব”,পুরুলিয়ায় মমতার কটাক্ষ বিজেপিকে। জল সমস্যা সমাধানের রুটম্যাপ তৈরি ছাড়াও বিজেপিকে বিঁধলেন জ্বালানি গ্যাসের দাম নিয়ে। বিজেপির ইশতেহার নিয়েও কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেত্রী ।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আরও একবার পুরুলিয়ায় জনসভায় এলেন মমতা । তিনটি জনসভার প্রথমটি হলপাড়ায়। পরের দুটি কাশীপুর ও রঘুনাথপুরে। উল্লেখ করা যায়, নরেন্দ্র মোদি পুরুলিয়ায় বলে গিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে জল সংকট দূর হবে। এরপর জল সমস্যা সমাধানের রুটম্যাপ তৈরির পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করলেন গ্যাসের দাম নিয়ে ।
জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী জানালেন,এখানে দীর্ঘ দিনের পানীয় জলের সমস্যা ছিল। পানীয় জল প্রকল্প হয়েছে৷ ৩৩ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। জেআইসিএ জল প্রকল্পে কাজ চলছে। ৭বছর হয়ে গেল। দু-বছর নেবে বলেছিল। এক বছরে আমাদের কাজ শেষ হবে। যাতে ২০২২ সালের মার্চ মাসে আরও ৮ লক্ষ মানুষ জল পাবে। পুরুলিয়ার টাউন ও ৫টি ব্লক পাবে। এক্ষেত্রে তাঁর আরও মন্তব্য,জল স্বপ্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে ৷ এখানে চাষ হয় না জমিতে। সেচের সমস্যাও রয়েছে। তা ছাড়াও কিছু জমি বাছাই করা হয়েছে। এখানে ৫৮০০০ কোটি টাকা খরচ করে এই প্রকল্প আনা হল।
তিনি আরও জানিয়েছেন,এই এলাকার কাঠামো বদলে গিয়েছে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে। একাধিক সংযোগকারী রাস্তা হয়েছে। ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। তাতে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। এক্ষেত্রে তাঁর আরও বক্তব্য,জল কষ্ট দূর করার জন্যে ১০ ব্লকে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। আস্তে আস্তে পুরুলিয়া জেলার কিছু অংশ নিয়ে মাটি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজ বেড়ে ২০০ দিন হয়ে যাবে।
পুরুলিয়ায় তৃণমূল সুপ্রিমো জানান,আগে ভয়ে এখানকার মানুষের মুখ শুকিয়ে থাকত। আজ পুরুলিয়ায় মানুষ শান্তিতে রয়েছেন।। আমরা কাস্ট সার্টিফিকেট সরলীকরণ করে দিয়েছি। মাসে ১ হাজার টাকা করে পাবেন শিডিউল কাস্টের মা -বোনেরা। ছাত্র-ছাত্রীদের নামে ১০ লক্ষ টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হবে। সে নিজের পয়সায় পড়তে বিদেশে যাবে, এর জন্যে কাউকে জামিন দিতে হবে না। জামিনদার আমরা। আগের চেয়ে দ্বিগুণ শিক্ষক নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য,আদিবাসীদের জমি কেউ দখল করতে পারবে না। বিজেপির নেতারা বীরসা মুন্ডা বলে অন্যজনের গলায় মালা দিয়ে যায়। সিধু কানহুর মূর্তি ভেঙে দেয়। বিজেপি হল গদ্দারের, দানবদের ও দস্যুদের দল। পাতা ভর্তি বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এটা করব, ওটা করব। আসলে সব মিথ্যা বলেছে। আমার পা খারাপ হলেও, জানে না আমি ভাঙি তবু মচকাই না।
তাঁর মুখে আরও শোনা গেল,বেকারি কমিয়েছি ৫০ শতাংশ। আরও কমাব। দারিদ্র্য ৩৫ শতাংশের এনেছি, ৫ শতাংশে নামাব। যা কাজ হয়েছে তা আগামীদিনে আরও করব। কাজ করতে গেলে মনে রাখবেন, এটা দিল্লির সরকার নয়। এটা তৃণমূলের সরকার। ঝাড়খন্ডের মতো এখানেও বিজেপি হারবে বলেও জানালেন তিনি। “খেলা হবে” বলেও প্রত্যয়ী তৃণমূল নেত্রী।
খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

