করোনার আবহে গাড়ি চালানোর পরীক্ষা নেওয়া হবে যন্ত্রে
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : করোনার আবহে বদলে যাচ্ছে গাড়ি চালানোর পরীক্ষা নেওয়ার পুরো পদ্ধতিটাই। ঘরে বসেই তাঁরা পরীক্ষা দেবেন ড্রাইভিং সিমুলেশন মেশিনে। এতে সময় বাঁচবে, তেমনই বজায় রাখা যাবে সামাজিক দূরত্ব। কলকাতায় প্রথম চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। আপাতত বেলতলা ও কসবা পিভিডিতে বসছে দুটি সিমুলেশন মেশিন।
এটি আদতে ভার্চুয়াল ড্রাইভিং। ভার্চুয়াল তৈরি হবে বৃষ্টি। জলে ঢেকে যাবে উইন্ডশিল্ড। চালাতে হবে ওয়াইপার। বৃষ্টিভেজা পথে চালাতে হবে গাড়ি। তৈরি করে দেওয়া হবে খন্দে ভরা রাস্তা। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হুবহু গাড়ির মতোই কেঁপে উঠবে যন্ত্র। মাঝে মধ্যেই গাড়ির সামনে এসে পড়বেন অন্যমনস্ক পথচারী। সময়ে ব্রেক কষতে না পারতেই বাজবে সাইরেন। এক কথায়, ঘরের মধ্যে রাখা যন্ত্রে বসেই পথের আবহ পাবেন নবিশরা।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কলকাতার পাবলিক ভেহিকলস ডিপার্টমেন্টে (পিভিডি) ২ মাস পর থেকেই লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষা হবে এই যন্ত্রে। কয়েক মাস আগেও দিনে গড়ে ১৫০ জন লাইসেন্স প্রার্থী গাড়ি চালানোর পরীক্ষা দিতেন বেলতলা, বেহালা, কসবা ও সল্টলেক পিভিডি-তে। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৫০-এ। করোনার প্রকোপে সামাজিক দূরত্ববিধি বজায় রেখে এর বেশি লাইসেন্স প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকে ফের চালু হয়েছে অনলাইনে লার্নার্স পারমিট ইস্যু।
পিভিডি-র আধিকারিকরা বলছেন, “পরিস্থিতির চাপে পড়ে লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য আমাদের পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি আগের তুলনায় অনেকটাই শ্লথ হয়েছে। তাই লার্নার্স পারমিট দেওয়া বন্ধ ছিল।” আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অনলাইনে লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৫০টা আবেদন নেওয়া হচ্ছে। আগে একটা গাড়িতে একজন পরীক্ষক ৩ লাইসেন্স প্রার্থীকে নিয়ে পরীক্ষা নিতে বেরোতেন। এখন নিরাপদ দূরত্ববিধির জন্য গাড়িতে একজনের বেশি প্রার্থীকে তোলা হচ্ছে না। দিনে ৫ জন করে ১০ স্লটে পরীক্ষা চলছে। এর বিকল্প হিসেবেই আসছে সিমুলেশন মেশিন।

