কবিগুরুর দিশা

Rabindranath Tagore

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ আমাদের দিশা দিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, নরম স্বভাব ও গভীর জ্ঞান—এই দুই একসাথে থাকলে মানুষ মহৎ হয়।” একটি কথাতেই তিনি সমগ্র জীবনের তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। “নরম স্বভাব” মানে বলতে তিনি ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছেন, তা আমাদের সবার কাছে স্পষ্ট নয়। অনেকে নরম স্বভাব মানে ভীতু বুঝি। আসলে তা নয়। খেয়াল করে দেখবেন, সবচেয়ে শক্তিশালী গাছটাই ঝড়ে মাথা নত করে কিন্তু ভাঙে না। যেমন, ধান গাছে ফল ধরলে মাথা নুয়ে যায়। আর ঠিক বিপরীত দিকটা লক্ষ্য করে দেখবেন,যে মানুষ রেগে যান বা চিৎকার করে থাকেন, সেই মানুষটি আসলে ভিতু স্বভাবের হয়। নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারেন না। অহঙ্কার না দেখিয়ে,কাউকে ছোট না করে যে মানুষটি হাসি মুখে সব মেনে নিতে পারেন সে-ই জ্ঞানী। ফাঁকা কলসি সব সময় বাজে বেশি। অনেক লেখাপড়া করলেই জ্ঞানী হওয়া যায় না। বিপদে যে মাথা ঠাণ্ডা রেখে চলবে,সেই জ্ঞানী। যে মানুষ অন্যের কষ্ট বুঝতে পারবে সেই প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি। চাণক্য পণ্ডিত যেমন বলেছিলেন, “বিদ্যা দদাতি বিনয়ং”। জ্ঞান মানুষকে নরম করে, অহঙ্কারী করে না। গভীর জ্ঞানী লোক তর্ক করে না। যতদিন বাঙালি থাকবে ততদিন আনন্দে-বেদনায় শ্রদ্ধায় ও স্মরণে মনে বিশ্বকবিকে। আজি এই প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর…লও প্রণাম রবীন্দ্রনাথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *