একনজরে দেখে নেওয়া যাক অম্বুবাচী আসলে কী
আমার বাংলা কাজ অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ বাংলা আজও প্রচলিত রয়েছে, ‘কিসের বার, কিসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী’।আবার প্রচলিত মত, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হয়ে থাকেন।ঠিক এই সময় অম্বুবাচী পালিত হয়ে থাকে।
অন্যদিকে জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করে থাকে, তার পরবর্তী সেই বারের সেই কালে অম্বুবাচী পালিত হয়।
জানা যায়, অসমের কামাক্ষ্যা মন্দিরে অম্বুবাচী উপলক্ষ্যে বিশেষ উৎসব পালন হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী জানা যায়, সূর্যের দক্ষিণায়নের দিন থেকে ৩ দিন অর্থাৎ আষাঢ়ের ৭ তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পালিত হয়ে থাকে এই পার্বণ।আষাঢ় মাসে রবি, মিথুন রাশির আর্দ্রা নক্ষত্রের প্রথমার্ধে অর্থাৎ এক চতুর্থাংশ স্থিতি কালে ধরিত্রী মা ঋতুমতী হয়ে থাকেন৷
পৃথিবীর প্রতিটি নারীই যেমন রজঃস্বলা হন, ঠিক তেমনই কথিত আছে ধরিত্রী মা এই সময় রজঃস্বলা হয়ে থাকেন।মানবজাতি শুরু থেকেই প্রকৃতিকে নারী রূপেই বন্দনা করে আসছে৷আবার হিন্দু ধর্মে মা কালী প্রকৃতি রূপেও পূজিত হন।
যদিও বিজ্ঞানের যুক্তিতে অন্য কথা বলা হয়৷বিজ্ঞানীদের মতে, বর্ষার নতুন জলধারায় সিক্ত হয়ে ওঠে প্রকৃতি, এবং এই অম্বুবাচী আসলে কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান৷বর্ষায় সিক্ত পৃথিবীকে এই সময় ঋতুমতী নারী হিসেবে কল্পনা করা হয়৷তাই এই সময় একদিকে যেমন বন্ধ থাকে পুজো-অর্চনা, তেমনই এই কয়েকদিন বন্ধ থাকে জমি কর্ষণ ও চাষ-আবাদ।
শাস্ত্রমতে অম্বুবাচীর নির্ঘন্ট: ২২ জুন (৭ আষাঢ়) সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে অম্বুবাচী আরম্ভ।২৫ জুন (১০ আষাঢ়) রাত ৮টা ১৮ মিনিটে অম্বুবাচী শেষ।

