First AidHealth Others 

লকডাউন আবহে কাটাছেঁড়ায় ঘরোয়াভাবেই প্রাথমিক চিকিৎসা

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : লকডাউনে কাটাছেঁড়ায় ঘরেই প্রাথমিক চিকিৎসা। বাড়ির বিভিন্ন কাজের সময় প্রায়ই ছোট-খাট কাটাছেঁড়ার সম্মুখীন হয়ে থাকি আমরা। করোনা আবহে ও লকডাউনের জেরে কাজ এখন বেড়ে গিয়েছে। এরফলে চোট-আঘাতের আশঙ্কাও বেড়েছে। প্রসঙ্গত, প্রয়োজন ছাড়া কেউ এখন বাড়ির বাইরে পা বাড়াচ্ছেন না। এক্ষেত্রে শিশুরা থাকলে ভয় আরও বেশি। যে-কোনও কাটাছেঁড়াতেই জীবাণুনাশক বিভিন্ন ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা অবশ্যই প্রয়োজন। হঠাৎ কেটে গেলে পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন তারই বিষয় আলোচনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কী করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে সংক্রমণ আটকাবেন, তার বিষয় আলোচনা করা হল।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রথমেই জায়গাটা ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজার দিয়ে ক্ষতস্থান ভাল করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এছাড়া বাড়িতে সব সময় পোভিডন-আয়োডিন জাতীয় অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন, গজ ও কাপড় রাখুন। ক্ষতস্থান শুকনোর জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনেকে কেটে, ছড়ে বা পুড়ে গেলে বিভিন্ন অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন যেমন– ডেটল ও স্যাভলন প্রভৃতি লাগান। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, এতে অনেক সময় ক্ষতস্থান এবং তার চারপাশে প্রচণ্ড জ্বালা করে।

ক্ষত গভীর হলে “থ্রি স্টেপ” অবলম্বন করা উচিত। ধোওয়ার পর দেখে নিতে হবে, ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না। এক্ষেত্রে রক্ত বের হতে থাকলে জায়গাটি গজ কাপড় ও পেপার টেপ দিয়ে ভাল করে ব্যান্ডেজ করে নিতে হবে। হাল্কা কাটাছেঁড়া নিয়ে বাইরে বেরতে হলে তা ব্যান্ডেজে ঢেকে রাখছে। বাড়িতে থাকাকালীন কিছুটা সময় মলম বা ওষুধ লাগিয়ে খোলা হাওয়ায় রাখতে হবে ক্ষতস্থান। এরফলে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকোবে। আবার লোহায় কাটলে টিটেনাস মাস্ট। এক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, জন্মের পরই কারও টিটেনাসের কোর্স নেওয়া থাকে, সেক্ষেত্রে ১০ বছরের মধ্যে ক্ষতের জন্য টিটেনাস না নিলেও চলবে। ছড়ে গেলে হাতের কাছে মজুত রাখা থাকে অ্যান্টিসেপটিক মলম ও ওষুধ।

সিলভার সালফাডায়াজিন অয়েনমেন্ট-এ খুব ভাল কাজ দেয়। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত না শুকোলে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া, প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হওয়া বা জ্বর এলে বুঝতে হবে সংক্রমণ ঘটেছে। সে সময় ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া কোনও উপায় নেই। কোন অ্যান্টিবায়োটিক আপনার জন্য উপযুক্ত তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সুযোগ না পেলে টেলিমেডিসিনের সাহায্য নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের কাছ থেকে ই-প্রেসক্রিপশন নিয়ে সেই মতো ওষুধ কেনা দরকার।

Related posts

Leave a Comment