কাটোয়ায় ডলফিন সংরক্ষণে বন দপ্তরের সচেতনতা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : এই প্রথম ডলফিন সংরক্ষণে কাজ শুরু করল বন দপ্তর। ডলফিনের মতো বিপন্ন জলজ প্রাণী সংরক্ষণে পুরো উদ্যমে কাজ শুরু করেছে ওই দপ্তর। এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেছেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, কাটোয়ার শাঁখাইঘাটে ডলফিন সংরক্ষণে বন দপ্তরের সচেতনতা অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী জানালেন, এর আগে বন বিভাগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাঘ বা অন্য বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করেছে। এই প্রথম আমরা ডলফিন সংরক্ষণ ও ডলফিন নিয়ে সচেতনতার কাজ করছি। এর আগে কখনও এই ধরনের কাজ হয়নি।
সেদিক থেকে বন দপ্তরের কাছে এখনকে একটা ইতিহাস তৈরি হল। এ প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অজয়-ভাগীরথী সঙ্গমে ডলফিন প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলা যায় কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ভাবনা-চিন্তা। প্রসঙ্গত, জলজ বাস্তুতন্ত্রে ডলফিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। পরিবেশকে সুস্থ রাখতে ডলফিন বাঁচিয়ে রাখাটা জরুরি। অন্যদিকে কাটোয়া এলাকায় ভাগীরথীতে সম্প্রতি ১১টি সদ্যোজাত ডলফিন শাবকের দেখা মিলেছে। ডলফিনের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে আনুমানিক ৩২, এমনটা আন্দাজ করা হচ্ছে। উল্লেখ করা যায়, ডলফিন সংরক্ষণের কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু হল মূলত কাটোয়াকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি ডলফিনের উপর নজরদারি চালানোর জন্য একটি স্পিড বোটেরও উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী।
আবার বন দপ্তরের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হল ডলফিন সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি সচেতনতামূলক বোর্ড। কাটোয়া সংলগ্ন এলাকায় অজয়-ভাগীরথী জুড়ে জীববৈচিত্র্যের দেখা পাওয়া যায়। এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বোর্ডগুলিতে। স্থানীয় সূত্রের আরও খবর, দক্ষিণ-পূর্ব চক্রের মুখ্য বনপাল কল্যাণ দাসের উদ্যোগেই মূলত শুরু হচ্ছে অজয়-ভাগীরথীর সঙ্গমে ডলফিন সংরক্ষণের কাজ। মুখ্য বনপাল এ বিষয়ে জানান, জলের নিচে থাকে বলে কোনও দিন সেভাবে গুরুত্বই পায়নি ডলফিন। ওরা এখন বড় বিপন্ন। অতিরিক্ত জল দূষণের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে তারা। ওদের সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

