বন্যার আগাম সতর্কতায় ‘জল অনুসন্ধান প্রকল্প’
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: এবার চালু হচ্ছে ‘জল অনুসন্ধান প্রকল্প’। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মূলত দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেই তার জন্য দায়ী করা হয় দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসি-কে । প্রায় প্রতি বছর বর্ষাকালে জল ছাড়ার ফলে বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলির বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হলে অভিযোগের তীর ওঠে ডিভিসি-র দিকেই। এবার সেই পরিস্থিতি তৈরির আগেই আগাম পদক্ষেপ নিতে জল অনুসন্ধানের ওপর জোর দিতে চাইছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন। আর সেই কারণেই তারা চালু করতে চলেছে ‘জল অনুসন্ধান প্রকল্প’।
ডিভিসি সূত্রে খবর, মাইথন-পাঞ্চেত বাঁধে জল নিয়ন্ত্রণ সন্তোষজনক থাকলেও অতিবৃষ্টি সংক্রান্ত কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাশাপাশি কবে কোন বাঁধ থেকে কী পরিমাণ জল ছাড়া হবে তার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কমিটি। ওই কমিটিতে থাকেন রাজ্যের প্রতিনিধিরাও। এই অবস্থায় ভবিষ্যতে ডিভিসি-র ছাড়া জলের কারণে যাতে কোনও সমস্যা সৃষ্টি না হয় তারজন্য ‘জল অনুসন্ধান প্রকল্প’ চালু করছে তারা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, উপগ্রহ চিত্র সহ অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করবে সংস্থা। বর্ষার সময়ে বিভিন্ন বাঁধ থেকে জল ছাড়া, দামোদর নদীতে জলের অবস্থা, জল ছাড়লে জেলাগুলিতে তার প্রভাব কি পড়বে ইত্যাদি সবটাই এই উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে বিশেষ প্রযুক্তিতে পর্যবেক্ষণ করবেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সব তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি রাজ্যকে অগ্রিম জানানো যাবে বলেও আশা করছেন তাঁরা। পূর্বাভাস অনুযায়ী রাজ্য সর্তকতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ৪ বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। সূত্রের আরও খবর, এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সাথে যুক্ত থাকবে। ফলে জল অনুসন্ধানের বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরও জানা যায়, ডিভিসি-র এই কাজের জন্য মঞ্জুর করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কাজটি পর্যবেক্ষণ করবে কেন্দ্রের জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। পাশাপাশি উপগ্রহ চিত্র পেতে সাহায্য করবে ইসরো। এরফলে বন্যার কারণ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা বন্ধ হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

