বিপুল বরফ হারিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্বে, প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক:গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর জেরে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ২৮ ট্রিলিয়ন টন বরফ সরে গিয়েছে বলে খবর। ২৩ বছরেএই অবস্থা হয়েছে। বিপুল বরফ হারিয়ে গোটা বিশ্বে আগামী দিনে কি প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়েই উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা। গ্লোবাল ওয়ার্মিং আগামী দিনে বিশ্বে ব্যাপক সমস্যা বাড়াতে পারে তা নিয়ে ঘুম ছুটেছে বিজ্ঞানীমহলে।
অধ্যাপক শেফার্ড এ বিষয়ে জানিয়েছেন,অ্যান্টার্কটিক কিংবা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গবেষণা করে জানানো হয়েছে যে সেখানে বরফ গলছে। তবে এই প্রথম সামগ্রিকভাবে বিশ্ব থেকে যে বিপুল পরিমান বরফ হারিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। আমরা যে সব তথ্য পাচ্ছি তা সত্যিই স্তব্ধ করে দিয়েছে।
পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে মারাত্মক হারে গলে গিয়েছে বরফ। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা।একটি সমীক্ষা অনুযায়ী জানা গিয়েছে,১৯৯৪সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ে পৃথিবীপৃষ্ঠ হারিয়েছে ২৮ ট্রিলিয়ন টন বরফ। পৃথিবীর মেরু অঞ্চল, পর্বত আর হিমবাহগুলো স্যাটেলাইট জরিপের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বিস্ময়কর তথ্য সামনে এনেছেন।এক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য,গত ২৩ বছরে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ফলে বিশ্বব্য়াপী উষ্ণতা বাড়ছে ও বরফের স্তর হারিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের আরও বক্তব্য, বিপুল পরিমানে বরফ গলে যাওয়ায় সৌর বিকিরণ প্রতিফলিত করে মহাকাশে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও কমতে শুরু করেছে পৃথিবীর। এক্ষেত্রে সাদা বরফ অদৃশ্য হচ্ছে। কালো সমুদ্র বা মাটি বেরিয়ে আসছে যা আরও বেশি তাপ শোষণ করছে।
এটি পৃথিবীকে আরও বেশি উষ্ণ করে তুলছে।প্রসঙ্গত,
বরফ হারানোর এই মাত্রাকে ‘বিস্ময়কর’ বলেছেন লিডস ইউনিভার্সিটি, এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ভিত্তিক বিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য, হিমবাহ আর বরফের চাদর গলতে থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রে জলের উচ্চতা এক মিটার পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। এ বিষয়ে লিডস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পোলার অবজারভেশন অ্যান্ড মডেলিং এর পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ডি শেফার্ড জানিয়েছেন, সমুদ্রে জলের উচ্চতা প্রতি সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাওয়া মানে এক মিলিয়ন মানুষ গৃহহারা হবে। যাঁরা অপেক্ষাকৃত নিচু অঞ্চলে বসবাস করে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, গত তিন দশকে প্রায় প্রতিটি অঞ্চলই ব্যাপকভাবে বরফ হারিয়েছে এবং এই প্রবণতা চলছে। গবেষক দলের সদস্য লিডস ইউনিভার্সিটির টম স্লেটার জানিয়েছেন,আমরা যে বরফ হারিয়েছি তার প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে, এই ২৮ ট্রিলিয়ন টন বরফ দিয়ে ১০০ মিটার পুরু চাদর তৈরি করে তা দিয়ে গোটা যুক্তরাজ্যকেই ঢেকে দেওয়া যেত।
খারাপ পরিস্থিতির পূর্বাভাস দ্য ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর পক্ষ থেকে দেওয়া হয় তার সঙ্গে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলাফল অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। উল্লেখ করা যায়, ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া, কানাডা ও অন্যান্য অঞ্চলের হিমবাহ, আর্কটিক ও এন্টার্কটিকের সামুদ্রিক বরফ, এন্টার্কটিক ও গ্রিনল্যান্ডের ভূমি ঢেকে রাখা বরফের চাদর এবং এন্টার্কটিক ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রে প্রসারিত বরফ নিয়ে স্যাটেলাইট জরিপ বিশ্লেষণ করেছেন ১৯৯৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত।

