এগ্রিকালচার রিফর্মস বিল ২০২০: কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থা উন্মুক্ত হওয়ায় আরও ক্ষমতায়িত হবেন
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ নতুন ব্যবস্থায় কৃষকদের দর কষাকষির ক্ষমতা কমে যাওয়ার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে মোট কৃষকদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, যাঁরা প্রতি বছর ফসল কাটার পরে প্রায় একই সমস্যার মুখোমুখি হন। ধরা যাক, বাজারে কৃষক একটি কোণে বসে তাঁর ফসল বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ পর তিনি বাজারের মধ্যস্থতাকারীর কাছে অনুরোধ করে বলেন যে, তাঁর মালও বিড করা হোক। মধ্যস্থতাকারী তাঁর শস্যের স্তূপের কাছে এসে এক মুঠো দানা হাতে নিয়ে বলল, ৫০ টাকা কম দেব। কৃষক নিরুপায় হয়ে সম্মতির ইঙ্গিত দেয়। মধ্যস্ততাকারী কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর জিনিসপত্র নিয়ে আসে। মধ্যস্ততাকারী জানান যে, মোট ১৮ কুইন্টাল পণ্য পাওয়া গিয়েছে। কৃষক জানান যে, সে বাড়ি থেকে ২০ কুইন্টাল পণ্য নিয়ে এসেছিল। মধ্যস্ততাকারী হুমকি দিয়ে বলে, তোমার সামনেই তো ওজন করা হল। মধ্যস্ততাকারী তাঁর ও মান্ডির কমিশন কেটে, সেই সাথে সাফাইওয়ালা, বেল্লাদার ও ওজনের টাকা কেটে কৃষকের হাতে বাকি অর্থ তুলে দেন। কৃষক বাড়িতে গিয়ে হিসাব করলে জানতে পারে যে, সবকিছু কেটেছেঁটে মাত্র মোট ১৫ কুইন্টাল সামগ্রীর অর্থ পেয়েছিল। বাকী পাঁচ কুইন্টালের টাকা কোথায় গেল?
কৃষি বিলের প্রতিবাদে গত রবিবার রাজ্যসভায় তোলপাড়, ঝগড়া-বিবাদ দেখা যাচ্ছে, এই প্রতিবাদ রাস্তায়ও দেখা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে যেন, এই পাঁচ কুইন্টাল মালের জন্য এগুলি ঘটছে, অন্যথায় বিরোধীরা এও জানে যে, কৃষকদের ন্যূনতম সহায়তা মূল্য শেষ হচ্ছে না, প্রচলিত সেই বাজারও নেই। কৃষকরা তাঁদের শস্যের জন্য সবেমাত্র নতুন ক্রেতা শ্রেণি পেয়েছে। তবে উপায়টি এখনও মধ্যস্থতাকারীদের জন্য উন্মুক্ত, তবে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব স্বেচ্ছাচারিতা করতে আর সক্ষম হবে না, কারণ কৃষক আর তাঁর স্বেচ্ছাচারিতার ওপর নির্ভর করে তাঁর পাঁচ কুইন্টাল শস্য হারাবে না। এই বিলের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে বলতে গেলে, যখন সংস্থাগুলি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে তাঁদের শস্য কিনে নেবে, তখন নতুন সংগ্রহ কেন্দ্র, স্টোরেজ, প্রসেসিং পয়েন্ট ইত্যাদিও চার-পাঁচটি গ্রামের শস্যের সংগ্রহের জন্য তৈরি করা হবে এবং যারা বা যে সংস্থাগুলি সেই অঞ্চলে আসতে চায় এমন প্রতিটি সংস্থাই এটি করবে। এই গ্রামগুলিতে সংগঠিত কর্মসংস্থানকে উৎসাহ দেওয়া হবে এবং সেখানে জমির দামও বাড়বে। এতে গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়নের নতুন মডেল তৈরি হবে। নতুন কৃষি বিল সম্পর্কে যদি কোনও উদ্বেগ থাকে তবে বড় কোম্পানিগুলি সরকারি ন্যূনতম দামে কৃষকদের কাছ থেকে তাঁদের কৃষি পণ্য কেনার চেষ্টা করবে। অতএব, এটি নিশ্চিত করা উচিত যে, কৃষকরা তাঁদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পায় এবং নতুন পদ্ধতিতে কৃষকদের দর কষাকষি করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার পরিবর্তে যেন আরও বৃদ্ধি পায়।

