Sri Ramkrishna-1Others 

বিশ্বভুবনকে চৈতন্যময় রূপে দেখেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আজ শ্রীরামকৃষ্ণের ১৮৬-তম জন্মতিথি। আশ্চর্য পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ। তিনি বিত্তবান ছিলেন না। সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী ও দার্শনিকও নন। শ্রীরামকৃষ্ণ ছিলেন আনন্দময় পুরুষ। আনন্দই তাঁর স্বরূপ। প্রেম ও করুণা দিয়ে অগণিত মানুষের মনে জায়গা করেছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ অধ্যাত্মসাধনার উপলব্ধিতে এ জীব-জগৎ চৈতন্যময়। প্রতি মানুষের অন্তরে রয়েছে সেই পরম সত্যের অমৃতকুম্ভ, যা যাবতীয় আনন্দের উৎস হতে পারে। এই সত্যের উপলব্ধিই মানুষের জীবন আনন্দময় হয়।

মানুষ ঈশ্বর চিন্তা করতে পারে, অনন্তকে চিন্তা করতে পারে, অন্য জীবজন্তু পারে না। মানুষের সুপ্ত চৈতন্যের জাগরণ ঘটিয়ে তাকে মান-হুঁস করাই ছিল শ্রীরামকৃষ্ণ-জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনন্ত সম্ভাবনাময় মানুষদের শান্তি ও আনন্দের সন্ধান দেওয়াই হল জীবনসাধনা। মানব-প্রতিমাকে কেন্দ্র করেই তাঁর জীবন-পূজা। বিশ্বভুবনকে চৈতন্যময় রূপে দেখেছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছিল তাঁর গভীর একাত্মতাবোধ।

জানা যায়, কালীবাড়ির গঙ্গাঘাটে দাঁড়িয়ে একদিন গঙ্গাদর্শন করছেন। স্থানীয় ঘাটে মাঝিরা ঝগড়া করছিল। সবল এক মাঝি মারছিল দুর্বলকে। শ্রীরামকৃষ্ণ চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলেন। মাঝিদের বিবাদ থেকেই তাঁর পিঠে আঘাতজনিত বেদনাচিহ্নগুলি ফুটে উঠেছিল। ব্যথিতের সঙ্গে একাত্মতাবোধ থেকে এই ঘটনা সত্যিই বিরল। শ্রীরামকৃষ্ণের অনুভবে ছিল সাধারণ মানুষ, চলমান সাকার বিগ্রহ এবং অমৃতের সন্তান। তিনি মানুষকে ভালবেসেছিলেন অন্তরের গভীর প্রেরণা থেকে। তাঁর ভাবনায় ছিল- জগতের দুঃখে বেদনার্ভ না হয়ে পরিত্রাণ নেই। অন্যদিকে বেদনার নিবৃত্তিতেও তিনি সদা সচেষ্ট ছিলেন।

Related posts

Leave a Comment